চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কোনো গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেছেন,টেলিগ্রাম গ্রুপে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সেটাই মূল ধারার মিডিয়া প্রকাশ করছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা তো ননস্টপ বলে যাচ্ছি যে, আমাদের চেষ্টা রয়েছে সুন্দর পরিবেশে, সুন্দর পরীক্ষার জন্য। কোনো গুজবে না কান দেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ করছি। ফেসবুক তো হয়ে গেছে ইনস্ট্যান্ট কফির
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি জানিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, টেলিগ্রাম গ্রুপে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সেটাই মূল ধারার মিডিয়া প্রকাশ করছে। নিউজ দেওয়ার আগে সেটাকে ভেরিফাই করা সবার দায়িত্ব। আপনাদের দায়িত্ব পালন করেন, আমরাও সচেতন রয়েছি। আমি আশা করবো, গুজব ছড়ানোর আগে যেন একটু ভেরিফাই করে নেওয়া হয়। আমরা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
গুজব নিশ্চিতের পরও মিডিয়া তা পুনঃপ্রচার করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আশ্চর্যের বিষয় হলো- কয়েকটি মিডিয়া গুজবের ওই ভিডিওগুলোকে আবার রেকর্ড করে পুনঃপ্রচার করছে। ওই টেলিভিশন নিউজ উইথড্র করার পর গুজব নিশ্চিত হয়েছে। এরপরও যারা তা ছড়িয়েছে, শেয়ার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ সবাই সচেতন না হলে বিষয়গুলো চলতেই থাকবে এবং ছাত্র-ছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাব—সেই প্রত্যাশা করি। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। সেখানে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। মির্জা আব্বাস বলেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।
রাজনৈতিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার এবং রিটেইনার (গানম্যান) নিয়োগের সুযোগ দিতে নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাইয়ের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ওই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় দুই ধরনের ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন। ১. সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ২. সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং গৃহীত হয়ে থাকলে। নীতিমালার শর্তে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা) কর্তৃক যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি’ থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যে নীতিমালা আছে, তার শর্তগুলো এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে সাধারণ নীতিমালায় পিস্তল, রিভলবার, রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতার রয়েছে, এই বিশেষ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। এই লাইসেন্সের আওতায় কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না। স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন। এরপর এ ধরনের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোনো লাইসেন্সধারী এর বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিটেইনার বা গানম্যান রাখার অনুমতি পেতে হলেও কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের কোনো প্রার্থী লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোনো ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। সেজন্য লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। রিটেইনার বা গানম্যানকে অন্যূন ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। অপরাধমুক্ত থাকার রেকর্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া ফিটনেস সনদ থাকতে হবে। তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ দিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে রিটেইনারের মেয়াদও সমাপ্ত হবে।
চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কোনো গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেছেন,টেলিগ্রাম গ্রুপে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সেটাই মূল ধারার মিডিয়া প্রকাশ করছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা তো ননস্টপ বলে যাচ্ছি যে, আমাদের চেষ্টা রয়েছে সুন্দর পরিবেশে, সুন্দর পরীক্ষার জন্য। কোনো গুজবে না কান দেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ করছি। ফেসবুক তো হয়ে গেছে ইনস্ট্যান্ট কফির রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি জানিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, টেলিগ্রাম গ্রুপে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সেটাই মূল ধারার মিডিয়া প্রকাশ করছে। নিউজ দেওয়ার আগে সেটাকে ভেরিফাই করা সবার দায়িত্ব। আপনাদের দায়িত্ব পালন করেন, আমরাও সচেতন রয়েছি। আমি আশা করবো, গুজব ছড়ানোর আগে যেন একটু ভেরিফাই করে নেওয়া হয়। আমরা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। গুজব নিশ্চিতের পরও মিডিয়া তা পুনঃপ্রচার করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আশ্চর্যের বিষয় হলো- কয়েকটি মিডিয়া গুজবের ওই ভিডিওগুলোকে আবার রেকর্ড করে পুনঃপ্রচার করছে। ওই টেলিভিশন নিউজ উইথড্র করার পর গুজব নিশ্চিত হয়েছে। এরপরও যারা তা ছড়িয়েছে, শেয়ার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ সবাই সচেতন না হলে বিষয়গুলো চলতেই থাকবে এবং ছাত্র-ছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রথম দিনেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মন জয় করলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। পবিত্র রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি থাকবে কি থাকবে না? বিষয়টি নিয়ে দিনভরই তাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিকেলে মন্ত্রি পরিষদের সভায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করলে প্রধানমন্ত্রী ছুটির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। এরপরই সন্ধ্যায় ছুটির বিষয়টি উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পবিত্র রমজান, হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, শব-ই-কদর, জুমাতুল বিদা, ঈদ-উল ফিতর ও মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ২৬ দিন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, অর্ধ-বার্ষিক/প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৮ জুন থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত, নির্বাচনী পরীক্ষা হবে ২৮ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত, বার্ষিকী পরীক্ষা ১৯ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। একই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষাবর্ষ হবে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সরকার ঘোষিত নির্দেশনার আলোকে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করতে হবে। উল্লেখিত পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা, প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা, নির্বাচনী পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং বার্ষিক পরীক্ষার উত্তরপত্র অন্তত এক বছর সংরক্ষণ করতে হবে। পরীক্ষার সময় ১২ কার্মদিবসের বেশি হবে না। স্ব স্ব বিদ্যালয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র (পাবলিক পরীক্ষা ব্যতীত) নিজেরাই প্রণয়ন করবেন। কোন অবস্থাতেই অন্য কোন উৎস থেকে সংগৃহীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া যাবে না। পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন করা যাবে না। তবে কোন বিশেষ কারণে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করতে হলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো ও সুপারিশমালা চূড়ান্ত রিপোর্টে গুরুত্ব না পাওয়ায় জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ থেকে পদত্যাগ করেছেন কমিশনের খণ্ডকালীন সদস্য অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকার। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। অধ্যাপক মাকছুদুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি পদত্যাগের আটটি কারণ তুলে ধরেন: অধ্যাপক মাকছুদুর রহমান জানান, অর্থ উপদেষ্টার মৌখিক নির্দেশ ও বেতন কমিশন চেয়ারম্যানের লিখিত নির্দেশনা মোতাবেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রণয়নে চার সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছিল। উক্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাস্তবায়নযোগ্য ও ন্যায়সংগত মোট ৩৩টি প্রস্তাবনা পেশ করে। এই প্রস্তাবনাগুলোতে বেতন-ভাতাকে কাজের মান বা পারফরম্যান্সের (Performance) সাথে সম্পৃক্ত করার সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ছিল। অধ্যাপক মাকছুদুর অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সাব-কমিটির রিপোর্টটি কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় আলোচনার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কমিশনের সর্বশেষ সভায় চূড়ান্ত রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বিষয়গুলো সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবনাগুলো বিবেচনায় না নেওয়া দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য বড় বাধা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হয়েও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো অবদান রাখতে না পারায় আমি কমিশন থেকে পদত্যাগ করাকে উত্তম মনে করছি।’ আজ তিনি অর্থ সচিব বরাবর তার আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাকে মনোনয়ন প্রদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি কাজের সুযোগ দেওয়ার জন্য কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।