বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের মানুষের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন। নামাজের পর সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়, ঈদের দিন বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে (২৯ মিন্টো রোড, ঢাকা) শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হবে। এদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকাস্থ কূটনৈতিক মিশনের কূটনীতিকগণের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করবেন। পরে বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। একই পোস্টে জামায়াত নেতারা কে কোথায় ঈদুর ফিতর উদযাপন করবেন তা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম ঢাকায়, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার নিজ গ্রামে, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের ঢাকায়, সাবেক এমপি মাওলানা শামসুল ইসলাম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নিজ গ্রামে, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনার খানজাহান আলী থানার নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার নিজ এলাকার ঈদগাহ মাঠে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার নওকৈড় নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ ঢাকায়, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভাঙ্গাপুষ্কুরুনী নিজ গ্রামে। এ ছাড়াও অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জম হোসাইন হেলাল বরিশালের নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সিলেটের নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. শাহজাহান চট্টগ্রাম মহানগরীতে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব আবদুর রব ঢাকায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ঢাকায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ঢাকায় ঈদ করবেন বলে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন বগুড়ায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ সাতক্ষীরার নিজ গ্রামে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ঢাকায়, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল চাঁপাইনবাবগঞ্জে, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন ঢাকায়, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নিজ গ্রামে ও ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম লক্ষ্মীপুরে নিজ গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘অতি দ্রুত এই ফ্যাসিস্টের দোসর চুপ্পুকে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে এবং তাকে গ্রেফতারের আওতায় আনতে হবে। তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন, তার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি রয়েছে, তিনি গণহত্যা চলাকালে নির্বিকার ভূমিকা রেখেছিলেন’। শুক্রবার (১৩ মার্চ ) বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সংসদকে সম্মান জানিয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং অভিযোগ এবং সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও গতকাল আমরা সংসদে গিয়েছিলাম। কারণ এত কারচুপির পরেও জনগণ আমাদের এবং ১১ দলীয় জোটের অনেককে নির্বাচিত করেছেন সংসদের কার্যক্রমকে বাস্তবায়ন করার জন্য, উচ্চকক্ষকে বাস্তবায়ন করার জন্য, সংবিধান সংস্কার করার জন্য। আমরা সেই উদ্দেশ্যেই এবং সেই কমিটমেন্টেই সংসদে গিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, এই সংসদে আমরা কোনো ফ্যাসিবাদের দোসরকে চাই না। ফ্যাসিবাদমুক্ত জাতীয় সংসদ দেখতে চাই। নাহিদ বলেন, খুব ভালোভাবে শুরু হলেও পরে দেখা গেল ফ্যাসিবাদের দোসর রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হলো। এটি করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে সংসদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করা হলো। রাষ্ট্রপতিকে বক্তৃতার সুযোগ দেওয়ার কারণে প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা ওয়াক আউট দিয়ে চলে এসেছি। তিনি আরো বলেন, ময়মনসিংহের জুলাই সৈনিক সাইফুল্লাহর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে ফ্যাসিস্ট বাহিনীরা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। আওয়ামী লীগ আসলে এমন একটি দল যারা গুপ্ত হামলা, অগ্নিসন্ত্রাস এবং এরকম দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে রাজনীতিতে সব সময় টিকে থাকতে চেয়েছিল। তাদেরকে ৫ আগস্টে পরাজিত ও প্রতিহত করেছিল বাংলাদেশের জনগণ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, আজ বিকেল ৩টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে মির্জা আব্বাসকে নিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শেই মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে।
অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে ওই হাসপাতালে গেছেন জামায়াত আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াত আমির হাসপাতালে অবস্থানরত মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর নিকট তাঁর শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি মহান আল্লাহর নিকট মির্জা আব্বাসের আশু আরোগ্য কামনা করেন। হাসপাতালে জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের মেডিক্যাল থানার সভাপতি ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জুলাই প্রস্তাবের পুরোপুরি বাস্তবায়ন চায় বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই সনদের আংশিক নয়, পুরো প্যাকেজ চাই। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের যেটুকু প্রাপ্য, সেটুকুই নেব।’ আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম ব্লকের নবম তলায় বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিরোধীদলীয় সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাশেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় সরকারি দলকে জুলাইয়ে প্রতি সম্মান জানিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান। সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা কেমন হবে, তা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখতে চাই। সরকার ভুল করলে পরমার্শ দেব, প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ করব। আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সরকার দল থেকে ইতিমধ্যে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের অবস্থান সময়মতো দেখতে পাবে জাতি।’
হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি না হলে সরকার যে খেজুর দেয় জনগণ জানতই না— এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। পোস্টে মাহমুদা মিতু লিখেছেন, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি না হলে সরকার যে খেজুর দেয় জনগণ জানতই না। পাইলেও জনগণ জানত এলাকায় নেতায় পাঠাইছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা সংবিধান মেনেই এই পর্যন্ত এসেছি এবং সংবিধান মেনে চলছি। সামনেও সংবিধান মেনে চলার আশা রাখি। সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো বিধান সংবিধানে নেই। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর ‘সংবিধা্ন সংস্কার পরিষদের শপথকে ‘জবরদস্তিমূলক শপথ’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।’ মঙ্গলবার এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলণায়তনে ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের প্রতি আইনজীবী সমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি আমরা শতভাগ অঙ্গীকারাবদ্ধ। এটা রাজনৈতিক সমঝতার দলিল। আমরা তাতে স্বাক্ষর করেছি। বরং যারা সমালোচনা করছে তারা স্বাক্ষর করেছে এই গত কয়েকদিন আগে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য ছিল যদি গণভোটের রায়কে আমরা সম্মান দিতে চাই, জাতীয় সংসদে আগে যেতে হবে। সেখানে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। আইন প্রণয়ন করতে হবে। সংবিধানে সেটা (সংবিধান সংস্কার পরিষদ) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তারপরে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হয় সেটা সেখানেই নির্ধারণ করা হবে। কোন ফরমে শপথ হবে সেটা তৃতীয় (সংবিধানের) তফসিলে আনতে হবে। কে শপথ বাক্য পাঠ করাবে সেটা নির্ধারিত হলে পরে এটা বিধিসম্মত হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো জুলাই জাতীয় সনদকে অস্বীকার করি না। জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা শব্দকে-অক্ষরকে আমরা ধারণ করি। আমরা সেটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। জাতির কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি, আমরা সেটা বাস্তবায়ন করব। এমনকি সেই প্রতিশ্রুতির বাইরেও আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে বিএনপি যে সমস্ত ইশতেহার প্রণয়ন করে জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করেছে সেই সমস্ত ইশতেহারও যা কিছু আছে তা আমরা বাস্তবায়ন করব।’
রাষ্ট্রপ্রতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী টিটিসি মাঠে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা ১২ মার্চের জন্য অপেক্ষা করছি। ১২ মার্চ সংসদের অধিবেশন। সেই সংসদে শুনছি ফ্যাসিস্টের দোসর, ফ্যাসিস্টের রেখে যাওয়া লেজুড় বক্তব্য দেবে, ভাষণ দেবে। আমি স্পষ্টভাবে বলে যাচ্ছি, কোনো ফ্যাসিস্টের দোসরের বক্তব্য শোনার জন্য আমরা ১২ মার্চ জাতীয় সংসদে যাচ্ছি না। তিনি বলেন, “আমরা জাতীয় সংসদে যাচ্ছি বাংলাদেশের মানুষ এই ইলেকশনে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। সংস্কারের পক্ষকে বাস্তবায়নের জন্য আমরা ১২ মার্চ জাতীয় সংসদে যাচ্ছি। জাতীয় সংসদে যাচ্ছি কবে উচ্চকক্ষ হবে, কবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে সেই হিসাব নেওয়ার জন্য। কোনো ফ্যাসিবাদের দোসরের বক্তব্য শোনার জন্য আমরা সংসদে যাচ্ছি না। ঢাকা-১১ আসনের এই সংসদ সদস্য এ সময় রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, “অবিলম্বে এই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তারের আওতায় আনতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ করে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটের ‘হ্যাঁ’ রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। সংস্কারের পক্ষে, বিচারের পক্ষে আমাদের লড়াই চলমান থাকবে। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সহসম্পাদক শফিকুল হক মিলন; রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাঙামাটি জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব উজ্জ্বল চাকমার পদত্যাগের ৫ দিন পর জুরাছড়িতে দলটির উপজেলা কমিটির আহ্বায়কসহ ৮৭ জন পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৯ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি জেলা কমিটির সদস্য ও জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমা। সোমবার এক বিশেষ সভায় উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমাসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটির সব সদস্য গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। পরে এ সংক্রান্ত পদত্যাগপত্র রাঙামাটি জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা বলেন, ১ জানুয়ারি রাঙামাটি জেলা কমিটি জুরাছড়ি উপজেলার ৮৭ সদস্যের কমিটি ছয় মাসের জন্য অনুমোদন দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগী নেতারা জানান, জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে তারা দলে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বড় একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করার মাধ্যমে এনসিপি তার স্বকীয়তা ও আদর্শ থেকে সরে এসেছে বলে তাদের মনে হয়েছে। দলটির বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে তাদের আদর্শিক অবস্থান মিলছে না। এ কারণে সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তারা। অসিম চাকমা বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের পক্ষে সেই আদর্শকে লালন করা আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই আজ থেকে আমি এনসিপির রাঙামাটি জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জুরাছড়ি উপজেলা আহ্বায়কসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। কোনো রাজনৈতিক দলের চাপের কারণে পদত্যাগ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের চাপে পদত্যাগ করেননি। এনসিপির রাঙামাটি জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির গণপদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সাংগঠনিক পদত্যাগপত্র আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর মাধ্যমে পদত্যাগের খবর পেয়েছেন। তবে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী যে কমিটি থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়, সেই কমিটির কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র পাঠাতে হয়।
‘নির্বাচনের আগে গণভোটে হ্যাঁ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার এখন গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।’ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে গণভোটে হ্যাঁ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার এখন গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।’ সোমবার (৯ মার্চ) সংগঠনটির পল্টন থানার বায়তুল মোকাররম সাংগঠনিক ওয়ার্ডের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আজকের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে জনসভায় দেশবাসীকে জুলাই সনদের পক্ষে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জনগণ গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেয়ার পর এখন তিনি সরকার গঠন করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে আদালতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কারণ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে তারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে পারবে না, দুর্নীতি করতে পারবে না, সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি করতে পারবে না। এই ভয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা ষড়যন্ত্র করছে।’ তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে কোনরূপ ষড়যন্ত্র করলে ছাত্র-জনতা সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেবে।’ এসময় তিনি ব্যবসায়ীদের বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় বসলে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ দমন করা হবে। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের ১ মাস পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। বরং আগের চেয়ে খুন, হত্যা, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ বেড়ে গেছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী অত্যাচার জনগণ অতিষ্ঠ। আনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বায়তুল মোকাররম সাংগঠনিক ওয়ার্ড সভাপতি এনামুল হক শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, পল্টন থানা আমির অ্যাডভোকেট মারুফুল ইসলাম, পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম, সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার আব্দুর রব। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের সহস্রাধিক ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে, ব্যবসায়ীদের সম্মানে বায়তুল মোকাররম সাংগঠনিক ওয়ার্ডের উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র গঠনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ন্যায্য সুযোগ পাবে; কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও বেতন বৈষম্য দূর হবে; এবং সমাজের প্রতিটি নারী নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে।’ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বাংলাদেশ ও সারা বিশ্বের সব নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে রবিবার (৮ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াত আমির বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা, হয়রানি ও অবমাননার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সমাজকে আরো দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ।’ বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, নৈতিকতা, মানবিকতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজই নারীর প্রকৃত মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারে। ধর্ম, মত ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নারী আমাদের সম্মান ও সহযোগিতার দাবিদার। এটিই মহান আল্লাহ তায়ালার বিধান। সবশেষে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে প্রতিটি নারী নিরাপদ, সম্মানিত ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে পারে।’
সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলের প্রধান নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ (শনিবার, ৭ মার্চ) জামায়াত আমির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে করা এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি। পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, ‘সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরবর্তী দিনগুলোতে বিশ্ব পরিস্থিতি অনুরূপ থাকলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’ তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারকে বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজে বের করতে হবে এবং জরুরি ভিত্তিতে তার বাস্তবসম্মত সমাধান গ্রহণ করতে হবে।’ পাশাপাশি এ সময়ে যেন নতুন কোনো সিন্ডিকেট গড়ে না ওঠে, সে লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি লেখেন, ‘দুর্যোগপূর্ণ এ মুহূর্তে দেশের কোথাও যেন জ্বালানি পাচার না হয়, সে বিষয়েও কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৬ মার্চ) কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হারুনুর রশিদকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।তিনি উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মার্চ রাতে কালাই উপজেলার মাত্রাই-বিয়ালা সড়ক দিয়ে ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন ও তার সহকারী আলিম ফিরছিলেন। এমন সময় ওই সড়কের বকুলতলী মোড় এলাকায় কয়েকজন তাদের পথরোধ করেন। পরে তাদের বেধড়ক মারধর করে সঙ্গে থাকা ৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিনের বাবা নুর আলম বাদী হয়ে হারুনুর রশিদসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে কালাই থানায় মামলা দায়ের করেন। কালাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, মামলার পর অভিযান চালিয়ে হারুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার অভিযোগ তুলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই অভিযোগ আনা হয়েছে সরকারের আরেক সাবেক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধেও। দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে মঙ্গলবার রাতে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রিজওয়ানা হাসান। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ধর্মীয় উগ্রবাদী শক্তিকে মূলধারায় আসতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সমাজে একটি শক্তি সব সময় নারীর সমান অধিকার ও ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এ সময়ে উপস্থাপক বলেছেন, সেই শক্তি বর্তমানে বিরোধী দলে আছে। জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেই শক্তির একটি অংশ রাজনীতিতেও সক্রিয় থাকতে পারে। তবে আমাদের কাজ ছিল যাতে তারা মূলধারায় (মেইনস্ট্রিম) আসতে না পারে এবং আমরা সেই কাজটা করতে পেরেছি।’ তার এ বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ এবং ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তার মন্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তোলপাড় চলছে। রিজওয়ানা হাসানের এমন প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও ফলাফল তৈরি ও ঘোষণায় মহা-ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। সাবেক উপদেষ্টার কথায় তা প্রমাণ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মঙ্গলবারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, ‘আমার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।’ অন্যদিকে খলিলুর রহমানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার সাড়া মেলেনি। রিজওয়ানা হাসান আরও বলেছেন, ‘আমার বক্তব্যটা খণ্ডিত করে প্রচার করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।’ ‘ওই সাক্ষাৎকারে কথা হচ্ছিল নারীর প্রতি উগ্রবাদ নিয়ে। সেখানে উপস্থাপকের প্রশ্ন ছিল-মাজারে হামলা, বাউলদের ওপর নির্যাতন এবং নারীদের নিয়ে নানা কটূক্তি হয়েছে। সেই সময় বিষয়গুলো আপনি কীভাবে দেখেছেন? অনেকেই বলেছে, সরকার উগ্রপন্থিদের সুযোগ দিয়েছে।’ ‘জবাবে আমি বলেছি, যারা কটূক্তি করেছে, তাদের বিষয়ে নারীসমাজ যেমন প্রতিবাদ করেছে, তেমনই লিগাল নোটিশ দিয়েছে। সরকারও এ বিষয়ে কথা বলেছে। ফলে তারা (কটূক্তিকারীরা) ক্ষমা চেয়েছে। সেসব কটূক্তি করা শক্তি যেন মেইনস্ট্রিম (সমাজে প্রাধান্য সৃষ্টিকারী) না হয়, সেটার বিষয়ে আমাদের (নারী সমাজ) কাজ করতে হবে। নারী সমাজ সেসব কটূক্তি করা শক্তিকে মেইনস্ট্রিম হতে দেয়নি। এখানে সরকারের কথা বলা হয়নি’, ফেসবুক পোস্টে ব্যাখ্যা করছিলেন রিজওয়ানা হাসান। রিজওয়ানা হাসান আরও বলেছেন, ‘এখানে আমার বক্তব্যে নির্বাচনের কথাই তো আসে না। উপস্থাপক কথার মাঝখানে হঠাৎ নির্বাচনের কথা তুললে আমি বলেছি বিরোধী দলের যেটুকু নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত, আমরা সেটা নিয়ে কাজ করব। আমি কোনো দলের নাম উচ্চারণও করিনি, আর বিরোধী দল তো অবশ্যই মেইনস্ট্রিম। সুতরাং যেটা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা তো অবান্তর। ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে, দলের নাম দিয়ে প্রচার করছে, যা অনাবশ্যক বিভ্রান্তি তৈরি করছে।’
নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অলটারনেটিভস ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, সাবেক এনসিপি নেত্রী তাজনুভা জাবীনসহ ১৭ জন রয়েছেন। আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) আংশিক এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে আরও রয়েছেন, আহমদ ইবনে আরিফ (অনি), ইমন সৈয়দ, ইমরান আহমেদ, জাহিন ফারুক আমিন, তানভীর চৌধুরী, ডা. তাজনুভা জাবীন, দুর্জয় দাশ গুপ্ত, ফরহাদুল আলম সবুজ, মাহফুজ আলম, মায়িদা তানহা বিদুষী, মুতাসিম বিল্লাহ, মনিরুজ্জামান, মো. রায়হানুর রহমান (রাবি), মোহাম্মাদ এরফানুল হক, সাজ্জাদ হোসেন শহীদুল্লাহ, শেখ ফরিদ, হাসান আলী। দেশের তরুণদের রাজনীতিতে ইতিবাচক অংশগ্রহণ নিশ্চিত, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার হৃত স্বপ্ন পুনরুদ্ধার এবং দায় ও দরদের বাংলাদেশ গড়ার জন্য সারা দেশের ছাত্র-নাগরিকদেরকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অলটারনেটিভস ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটি গঠন করেছে। এরআগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে অলটারনেটিভস।অলটারনেটিভস'র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, নতুন রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশ এবং জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার হৃত স্বপ্ন পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী দিনে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কমিটির সদস্যরা পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক যোগাযোগ ও সংলাপের মাধ্যমে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-জনতাকে এক করে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নেবেন।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, বৈষম্যহীনতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কার যদি নিশ্চিত না হয়, তবে বাংলাদেশের তরুণরা আবারও রাস্তায় নামবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি সংসদে আলোচনার পথকে সংকুচিত করে, তাহলে বারবার আন্দোলন-সংগ্রাম রাজপথে গড়াবে। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘এনসিপির যাত্রা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সরকারকে দায়িত্বশীল আচরণ করার তাগিদ দেন। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জুলাই ও এনসিপি নিয়ে বাংলাদেশের চাইতে বিদেশি গবেষকদের আগ্রহ বেশি। তবে অভ্যুত্থানকে টিকিয়ে রাখতে হলে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির ওপর জোর দিতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে আরও বই লেখা উচিত। একই সঙ্গে তিনি এই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নিরপেক্ষভাবে গবেষণার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে উন্মোচিত ‘এনসিপির যাত্রা’ বইটির লেখক দলের যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মাহবুব আলম। বইটিতে জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমি থেকে শুরু করে এনসিপির এক বছরের পথচলার নানা চড়াই-উতরাই তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি দলের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন প্রোপাগাণ্ডারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন লেখক। নাহিদ ইসলাম মনে করেন, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তিই বর্তমান সময়ের প্রধান দাবি। এসব দাবি আদায়ে সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা বিদেশি চুক্তিগুলো করার সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো আলচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে চুক্তির বিষয়ে। আজ শুক্রবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকার কয়েকটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ধরনের কোনো চুক্তি নিয়ে সরকার আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। তিনি আরো বলেন, আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছিলাম যে সংসদ না থাকার কারণে সরকার বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছে, ঠিক সেভাবেই আন্তর্জাতিক চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার আমাদের সেই দাবিগুলোকে আমলে নেয়নি। অতএব, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট এবং এখানে কোনো ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করার সুযোগ নেই। সম্প্রতি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেছেন, ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছে। তারা এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। সুতরাং এমন না যে এ চুক্তি আমরা অন্ধকারে রেখেছি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। এদিকে কক্সবাজারের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে এক মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনও চেম্বার জজ আদালতে স্থগিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। আইভীর জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ৯ মার্চ এবং বদির বিষয়ে শুনানির জন্য ২০ এপ্রিল দিন ঠিক করে দিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি। এর আগে, বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৬ ফেব্রুয়ারি আইভীকে জামিন দেয়। পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আইভীকে। সেগুলো হলো ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা। হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার দেওয়ার অভিযোগে অপর মামলাটি হয়েছে সদর মডেল থানায়। গত বছরের ৯ মে ভোর রাত ৩টার দিকে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আর বিচারপতি আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৬ ফেব্রুয়ারি বদিকে জামিন দিয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০ আগস্ট চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে আবদুর রহমান বদিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও কিশোর কণ্ঠ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, গণভোটের রায় জনগণের। এই রায়কে যদি কেউ কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যায়, তাহলে এর পরিণতি খুব ভয়াবহ হবে। তরুণ প্রজন্ম কাউকে ছেড়ে দিয়ে কথা বলবে না। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে কিশোর কণ্ঠ পাঠক ফোরামের মেধাবৃত্তি ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, নির্বাচনের পর যে দলটি ক্ষমতায় গিয়েছে তারা জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রচণ্ড গড়িমসি করছে। এর আগে তারা জুলাই সনদে অংশগ্রহণ করেছে, স্বাক্ষর করেছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ডাকে দিনের পর দিন আলোচনা অংশগ্রহণ করেছে। তারা যে বিষয়গুলোতে ঐকমত্য পোষণ করেছে, সেখানে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল। এই গণভোটের রায়কে আবার চ্যালেঞ্জ করে পরবর্তীতে হাইকোর্টে আমরা রিট দায়ের করতে দেখলাম। এই রিট দায়ের করার ক্ষেত্রে যেসব আইনজীবী অংশগ্রহণ করেছিল এবং রিট দায়ের করেছেন যিনি, তিনি বিএনপিমনা বা বিএনপি সমর্থিত। আমরা এটার ধিক্কার জানাই। কিশোর কণ্ঠ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই বিপ্লবে এত রক্তের বিনিময়ে যে বিপ্লব সংগঠিত হয়েছিল, যে বিপ্লব তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিল, যে বিপ্লবের মাধ্যমে তারা দেশে আসতে পারল, এত রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তারা কিভাবে সেই রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করতে পারে। আমরা লজ্জিত। বিগত সরকারের সমালোচনা করে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, আগে যখন ফ্যাসিবাদ মানুষের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করত, তখন তারা কোর্টে যেত। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তারা কোর্টের কথা বলে বারবার এই রায়কে প্রলুদ্ধ করার চেষ্টা করেছে এবং কোটাগুলোকে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ বছর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য জানিয়েছেন। নাসিমুল গনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় ২০২৬ সালের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কারজয়ীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারীশিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের জন্য খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়
সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টাকে ‘মীরজাফর’ আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ মন্তব্য করেন। এসময় দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়। ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘৫৩টি আসনে অফিশিয়ালি আমরা অভিযোগ দাখিল করেছি। সেই ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি লড়াই আমাদের পক্ষ থেকে অব্যাহত থাকবে। নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে একজন রাজসাক্ষী পাওয়া গেছে জানিয়ে মো. তাহের বলেন, “গতকাল আমরা একজন রাজসাক্ষী পেয়েছি। সেই রাজসাক্ষীর নাম, সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা। তার ভাষ্য, ‘যারা নারীদের উপযুক্ত অধিকার নিশ্চিত করতে পারে নাই তারা বিরোধীদলে থাকলেও আমরা কিন্তু তাদের মূলধারা বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দেই নাই। তাহলে বুঝা যায় আমরা যে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা বলে আসছি সেটাকেই স্বীকার করে তিনি রাজসাক্ষী হয়েছেন। জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘সাবেক উপদেষ্টার (রিজওয়ানা) কাছে আমরা জানতে চাই, নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তার সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত ছিলেন। পুরা সরকার (অন্তর্বর্তী সরকার) ছিল, নাকি সরকারের একটি শক্তিশালী অংশ ছিল যারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে।’ এসময় বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে নিয়েও প্রশ্ন তোলে জামায়াত। দলটির নায়েবে আমির বলেন, ‘একটি নীতিগত কথা ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে যারা দায়িত্বে থাকছেন তারা কোনো দলীয় সরকারের অংশ হবেন না। কোনো মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করবেন না। তাই খলিলুর রহমান সাহেব পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে তার আগের শপথের পরিপন্থী কাজ করেছেন। খলিলুর রহমানকে অভিযুক্ত করে মো. তাহের বলেন, ‘খলিলুর রহমান ছিলেন লন্ডন কনস্পিরেসির প্রধান হোতা। সেখান থেকে তিনি সরকারকে (অন্তর্বর্তী সরকার) মোটিভেট করে, ষড়যন্ত্র করে বর্তমান যারা সরকারে আছেন তাদেরকে সুবিধা দেওয়ার জন্যই অব্যাহতভাবে কাজ করেছিলেন। তার সেই কাজের পুরস্কার হিসেবেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই রিঅ্যাওয়ার্ডটা পেয়েছেন।
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
রাজনৈতিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার এবং রিটেইনার (গানম্যান) নিয়োগের সুযোগ দিতে নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাইয়ের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ওই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় দুই ধরনের ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন। ১. সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ২. সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং গৃহীত হয়ে থাকলে। নীতিমালার শর্তে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা) কর্তৃক যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি’ থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যে নীতিমালা আছে, তার শর্তগুলো এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে সাধারণ নীতিমালায় পিস্তল, রিভলবার, রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতার রয়েছে, এই বিশেষ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। এই লাইসেন্সের আওতায় কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না। স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন। এরপর এ ধরনের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোনো লাইসেন্সধারী এর বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিটেইনার বা গানম্যান রাখার অনুমতি পেতে হলেও কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের কোনো প্রার্থী লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোনো ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। সেজন্য লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। রিটেইনার বা গানম্যানকে অন্যূন ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। অপরাধমুক্ত থাকার রেকর্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া ফিটনেস সনদ থাকতে হবে। তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ দিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে রিটেইনারের মেয়াদও সমাপ্ত হবে।
ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাব—সেই প্রত্যাশা করি। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। সেখানে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। মির্জা আব্বাস বলেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।