ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বাংলাদেশে সম্প্রচার না করার নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২৬ মার্চ শুরু হতে যাওয়া আইপিএলের আসরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এ সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো গ্রহণযোগ্য বা স্পষ্ট কারণ জানা যায়নি।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী জনগণের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ ও বেদনার সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলেও চিঠিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
এই প্রেক্ষাপটে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আইপিএলের সব ধরনের খেলা ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান বাংলাদেশে প্রচার ও সম্প্রচার বন্ধ রাখার জন্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়।
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে দেশিয় অস্ত্রসহ আতিক হাসান (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে বিজিবি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে করে পাটগ্রাম থানায় সোপর্দ করেছেন। এর আগে ভোরে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীনস্থ পঁয়ষট্টিবাড়ি বিওপির একটি টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তার আতিক হাসান পাটগ্রামের সীমান্তপাড়া এলাকার মো. বজলার রহমানের ছেলে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত মেইন পিলার-৮৪৬ এর কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আউলিয়ার হাট নামক স্থানে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে দেখে অভিযান চালায় বিজিবি। এসময় আতিক হাসানকে আটক করা সম্ভব হলেও তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন পালিয়ে যান। আটক আতিকের কাছ থেকে ২ ফুট ৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি ছুরি এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রীরামপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে চোরাচালান করতে গিয়ে তিনি বিজিবির হাতে ধরা পড়েন। অভিযান চলাকালীন পালিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন— মো. জুলফিকার আলী (৩৫) ও মো. রহিদুল (৪২)। বিজিবি জানিয়েছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, বিজিবি আতিক হাসানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে থানায় দিয়েছেন। তাকে লালমনিরহাট জেলহাজতে পাঠানো হবে।
বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের কনিষ্ঠ কন্যা ফোবি অ্যাডেল গেটস। ২৩ বছর বয়সী এই তরুণী তার ব্যক্তিগত জীবন আর পেশাগত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রায়ই থাকেন আলোচনায়। এবার ফের শিরোনামে এলেন প্রেমের খবর নিয়ে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নতুন সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছেন ফোবি। তবে এই প্রেম একেবারে নতুন নয়; শৈশব থেকেই গড়ে উঠেছে তাদের সম্পর্কটি। ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করেন ফোবি। ছবিতে দেখা যায়, তার শৈশবের বন্ধু চ্যাজ ফ্লিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে ধরা দিয়েছেন বিল গেটস কন্যা। ক্যাপশনে শুধু একটি লাভ ইমোজি! আর তাতেই নেটদুনিয়ায় শুরু আলোচনা। পোস্টটি প্রকাশের পরই অনুরাগীদের মন্তব্যে ভরে ওঠে কমেন্ট বক্স। কেউ অভিনন্দন জানাচ্ছেন, কেউ আবার মজা করে লিখেছেন, ‘পুরনো ভালোবাসা যেন এবার স্থায়ী হয়।’ টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফোবি ও চ্যাজ একই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। সেই সময় তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের পাশাপাশি স্বল্প সময়ের জন্য সম্পর্কও ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এবার সেই পুরনো সম্পর্কই নতুন রূপে ফিরে এসেছে। এক সাক্ষাৎকারে ফোবি বলেছিলেন, ১৫ বছর বয়স থেকে চ্যাজকে চেনেন তিনি। এর আগে ব্রিটিশ সংগীত কিংবদন্তি পল ম্যাককার্টনির নাতি আর্থার ডোনাল্ডের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়েছিলেন ফোবি। ২০২৩ সালের শেষ দিকে তাদের প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায়, এরপর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি ফোবি নিজেই নিশ্চিত করেন বিষয়টি। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ দিকে সেই সম্পর্কে ইতি টানে দুজন। এদিকে ব্রেকাপের এক মাস বাদেই নতুন সম্পর্কের ইঙ্গিত দিলেন এই ধনকুবেরের কন্যা; যা নিয়ে তার ভক্ত মহলে ব্যাপক আলোচনা। ফোবি বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফ্যাশন শপিং টুল ‘ফিয়া’ নিয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে সিরিজ জয়ের পর বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছে বাংলাদেশ দল। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়েও উন্নতি হয়েছে লাল-সবুজদের। চার নম্বরে থাকা পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে তিন রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেছে বাংলাদেশ, যার ফলে দশ নম্বর থেকে এক ধাপ এগিয়ে এখন নবম স্থানে উঠেছে তারা। এই অবস্থান ধরে রাখতে পারলে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। তাই সামনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী ১৩ এপ্রিল দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসবে নিউজিল্যান্ড দল। মিরপুরে ১৭, ২০ ও ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ২৭ ও ২৯ এপ্রিল এবং ২ মে হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। তবে র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ওয়ানডে সিরিজটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের মাঠে এই সিরিজে বাংলাদেশকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে নিউজিল্যান্ডের দল নির্বাচন। কারণ আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ত সূচির কারণে নিউজিল্যান্ড তাদের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারকে পাচ্ছে না। বাংলাদেশ সফরের দলে থাকছেন না অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার, রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, টিম সাইফার্ট, ফিন অ্যালেন, কাইল জেমিসন, জেকব ডাফি ও লকি ফার্গুসন। এছাড়া পাকিস্তান সুপার লিগে ব্যস্ত থাকায় মার্ক চ্যাপম্যান ও ড্যারিল মিচেলও এই সিরিজে খেলবেন না। সব মিলিয়ে প্রথম সারির ১০ ক্রিকেটারকে ছাড়াই বাংলাদেশে দল পাঠাচ্ছে কিউইরা। ফলে অনেকটাই তরুণ ও অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দ্বিতীয় সারির দলই দেখা যেতে পারে নিউজিল্যান্ড স্কোয়াডে। এমনকি দলের দুই কোচও পিএসএলে যুক্ত থাকায় বাংলাদেশ সফরে আসবেন না বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এই সিরিজে সেরা দলটাই মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করছে। কারণ ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ম্যাচ ও প্রতিটি রেটিং পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে বিরল ও অবিশ্বাস্য এক ঘটনার সাক্ষী থাকল ক্যাম্পোনাতো মিনেইরোর ফাইনাল। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব ক্রুজেইরো ও অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর মধ্যকার ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ভয়াবহ হাতাহাতি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে শেষ পর্যন্ত ২৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখাতে হয়। এর মধ্যে ক্রুজেইরোর ১২ জন এবং অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর ১১ জন খেলোয়াড় রয়েছেন। বেলো হরিজন্তে অনুষ্ঠিত ফাইনালে কাইও জর্হের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ক্রুজেইরো। সাবেক ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ তিতের অধীনে দলটি ২০১৯ সালের পর প্রথমবার মিনাস জেরাইস রাজ্যের চ্যাম্পিয়ন হয়। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সংঘটিত সহিংসতা পুরো আনন্দঘন পরিবেশকে ম্লান করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাকর্মী ও মিলিটারি পুলিশকে মাঠে হস্তক্ষেপ করতে হয়। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর গোলরক্ষক এভারসন ক্রিস্টিয়ানকে মাটিতে ঠেলে দেন এবং ক্রুজেইরোর এই মিডফিল্ডারের বুকের ওপর হাঁটু রাখেন। লুজ বলের পেছনে দৌড়ানোর সময় এই সংঘর্ষ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে ক্রিস্টিয়ানের সতীর্থরা এভারসনের দিকে ধেয়ে যান এবং ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে গোলপোস্টের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। এরপর দুই দলের আরো খেলোয়াড় এতে জড়িয়ে পড়েন। নিরাপত্তাকর্মীরা খেলোয়াড়দের আলাদা করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ম্যাচ চলাকালীন রেফারি মাতেউস ডেলগাদো কান্দানকান কোনো লাল কার্ড দেখাননি। তবে ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর খবরে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের কারণে মাঠে তাৎক্ষণিকভাবে কার্ড দেখানো সম্ভব না হওয়ায় পরে ২৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়। ক্রুজেইরোর ১২ জন খেলোয়াড় লাল কার্ড পান, যার মধ্যে গোলদাতা কাইও জর্হেও রয়েছেন। অন্যদিকে অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর ১১ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে সাবেক অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ও নটিংহ্যাম ফরেস্টের ডিফেন্ডার রেনান লোদি এবং ব্রাজিলের তারকা ফরওয়ার্ড হাল্কও রয়েছেন। সিনিয়র ফুটবলে এক ম্যাচে সর্বাধিক লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ডটি বর্তমানে আর্জেন্টিনার পঞ্চম স্তরের লিগে অ্যাথলেটিকো ক্লেইপোল ও ভিক্টোরিয়ানো অ্যারেনাসের ম্যাচে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে সব মিলিয়ে ৩৬ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। রেফারি তার প্রতিবেদনে ওই ঘটনাকে ‘হাতাহাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর ফরওয়ার্ড হাল্ক বলেন, ‘এটি খুবই দুঃখজনক। আমরা এমন উদাহরণ স্থাপন করতে পারি না, কারণ এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো বিশ্বে পড়ে। আমাদের নিজেদের ভাবমূর্তি এবং ক্লাবের মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব আছে।’ ক্রুজেইরোর কোচ তিতে বলেন, ‘আমি ক্রুজেইরো সমর্থকদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানাই। আমার সক্ষমতায় হয়তো ঘাটতি থাকতে পারে, কিন্তু সমর্থক ও কাজের প্রতি ভালোবাসা ও সততার কোনো অভাব কখনও ছিল না।’
পাকিস্তানের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর খেলোয়াড়দের ওপর বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির। তিনি বলেছেন, শুধু খেলোয়াড়দের দায়ী করে শাস্তি দেওয়া সমস্যার সমাধান নয়; নির্বাচক ও বোর্ড কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাকিস্তানের গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির উদ্যোগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের জন্য দলে থাকা প্রতিটি খেলোয়াড়ের ওপর প্রায় ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একটি টকশোতে আমির বলেন, ‘যদি জরিমানাই সমাধান হয়, তাহলে তা সবার ওপরই প্রয়োগ করা উচিত, নির্বাচক থেকে শুরু করে প্রশাসন পর্যন্ত। খেলোয়াড়রা তো বন্দুকের মুখে দল গঠন করেনি। ভুল কম্বিনেশন নির্বাচনের দায় নির্বাচকদেরও নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘যারা দল নির্বাচন করেছে এবং পরিকল্পনা করেছে, তাদেরও জবাব দিতে হবে। মাত্র দুটি ম্যাচ খেলা ফখর জামানকেও কি জরিমানা করা হবে? আর সাহিবজাদা ফারহানের কী হবে?’ আমিরের মতে, খেলোয়াড়দের জরিমানা করাই সমস্যার সমাধান নয়। বরং পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতির জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশি বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘আমি শুরু থেকেই বলছি, ঘরোয়া ক্রিকেটে বিনিয়োগ করুন। সেখান থেকেই মানসম্পন্ন খেলোয়াড় উঠে আসবে। যদি কারো পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট হন, তাকে জরিমানা না করে দল থেকে বাদ দিন এবং বলুন ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স করে আবার দলে ফিরতে। একজন খেলোয়াড়ের জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো দল থেকে বাদ পড়া।