প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সমর্থন গণতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের ওপর আসন্ন গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থন একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নিরপেক্ষতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে—সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু মন্তব্য সামনে এসেছে। এই উদ্বেগ আলোচনার যোগ্য হলেও, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার আলোকে মূল্যায়ন করলে এ ধরনের সমালোচনার ভিত্তি নেই।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের এই সংকটময় সময়ে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাবই ফুটিয়ে তোলে। বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উল্লেখ করা মূল কারণসমূহ হুবহু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
১. অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ম্যান্ডেট সংস্কার, আনুষ্ঠানিকতা নয়
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুধু দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নিরপেক্ষ নির্বাচন তত্ত্বাবধানের জন্য গঠিত হয়নি। এটি দীর্ঘদিনের অপশাসনের ফলে সৃষ্ট শাসনতান্ত্রিক সংকট, জনঅনাস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক চরম দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকার। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত যে এই সরকারের মূল দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা।
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূস গত আঠারো মাসে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছেন, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই ফল। তাই এই সংস্কারের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের মূল উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে বোঝার শামিল। যে অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত, গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের মুহূর্তে সেই সংস্কার থেকে সেই সরকার নিজেকে দূরে রাখবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
২. সুপরামর্শ গণতান্ত্রিক পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ
অন্তর্বর্তীকালীন হোক বা নির্বাচিত হোক আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকার প্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে নীরব থাকার বাধ্যবাধকতা নেই।
বরং গণতন্ত্রে প্রত্যাশা করা হয় যে নেতারা জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় নীতি ও সংস্কারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর ছেড়ে দেবেন। অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও গণভোট কোনো টেকনোক্র্যাটিক প্রক্রিয়া নয়। এটি সরাসরি জনগণের মতামত জানার মাধ্যম। সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যখন স্পষ্টভাবে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন, তখন ভোটারদের সিদ্ধান্ত আরও তথ্যভিত্তিক ও অর্থবহ হয়।
গণতান্ত্রিক বৈধতার মূল প্রশ্ন হলো নেতারা অবস্থান নিলেন কি না, তা নয়; বরং—
ভোটাররা সেই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করতে স্বাধীন কি না
বিরোধী পক্ষ প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাতে পারছে কি না
পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য কি না
এই সব শর্ত বর্তমান প্রেক্ষাপটে অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
৩. এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য নেতৃত্ব অপরিহার্য
বাংলাদেশের সংস্কার গণভোট কোনো বিমূর্ত নীতিগত প্রশ্ন নয়; এটি দীর্ঘদিনের শাসনব্যর্থতার জবাব—যা বছরের পর বছর নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্বিগ্ন রেখেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন এবং তত্ত্বাবধানকারী সংস্থার রাজনীতিকরণের মাধ্যমে দেশকে সংকটে ফেলেছে।
এই বাস্তবতায় সংস্কারের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতারই প্রকাশ। যিনি নিজে সংস্কারের সমস্যা চিহ্নিত করেছেন এবং সমাধানে ঐকমত্য তৈরির নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার জন্য এখন নীরব থাকা হবে অসংগত ও দায়িত্বহীন। যে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের বৈধতা সংস্কার থেকে আসে, তাদের পক্ষে সংস্কারের পক্ষে কথা বলা পক্ষপাত নয়; বরং তা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।
৪. আন্তর্জাতিক নজির এই পদ্ধতিকে সমর্থন করে
এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো ব্যতিক্রম নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকার করবে যে বিশ্বজুড়ে বহু দেশে সরকারপ্রধানরা—ইউরোপ, এশিয়া বা অন্য যে কোনো অঞ্চলে—গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিবর্তনসংক্রান্ত গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এসব ঘটনাকে গণতান্ত্রিক রীতির লঙ্ঘন হিসেবে নয়, বরং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বাভাবিক প্রকাশ হিসেবেই দেখা হয়।
আধুনিক ইতিহাসে এর বহু উদাহরণ রয়েছে:
যুক্তরাজ্য (২০১৬): প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ব্রেক্সিট গণভোটে 'থাকুন' ভোটের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালান এবং ইইউ সদস্যপদ বজায় রাখাকে জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরেন।
স্কটল্যান্ড (২০১৪): ফার্স্ট মিনিস্টার অ্যালেক্স স্যালমন্ড 'ইয়েস স্কটল্যান্ড' প্রচারণায় ছিলেন প্রধান মুখ এবং গণভোটকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গণতান্ত্রিক সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
তুরস্ক (২০১৭): প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর সাংবিধানিক সংশোধনের পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারণা চালান।
কিরগিজস্তান (২০১৬): প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আতামবায়েভ সংসদীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ফ্রান্স (১৯৬২): প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য গণভোটের পক্ষে সরাসরি জনগণের সমর্থন চান, সংসদীয় বিরোধিতা উপেক্ষা করে।
এই সব ক্ষেত্রেই বর্তমান সরকারপ্রধানদের সমর্থনকে অগণতান্ত্রিক বলা হয়নি। বরং এটিকে রাজনৈতিক জবাবদিহিতার প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়েছে—নেতারা যা সঠিক মনে করেন তার পক্ষে কথা বলেন এবং শেষ পর্যন্ত জনগণের সিদ্ধান্ত মেনে নেন। গণভোটের বৈধতা নেতাদের নীরবতার ওপর নির্ভর করে না; এটি নির্ভর করে ভোটারদের স্বাধীনভাবে পক্ষে বা বিপক্ষে মত দেওয়ার সুযোগের ওপর।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনী স্বার্থ জড়িত নেই। ড. ইউনূস ও তার উপদেষ্টারা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লাভ বা দলীয় সুবিধা চান না। তাদের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে সময়সীমাবদ্ধ ও অন্তর্বর্তী। একবার সংস্কার গৃহীত বা প্রত্যাখ্যাত হলে তার বাস্তবায়ন বা পরিণতি বহন করবে নির্বাচিত সরকার। ফলে অযথা প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি খুবই সীমিত, এবং এই সমর্থনের সৎ উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
৫. সরকারি প্রচারণা মানেই জোরজবরদস্তি নয়
জেলা পর্যায়ে প্রচারণা চালানো নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা প্রেক্ষাপটসহ বিবেচনা করা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো সংস্কারের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব জনগণের কাছে স্পষ্ট করা, বিশেষ করে যেখানে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি সচেতন অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
ক্রান্তিকালীন সময়ে এ ধরনের সরকারি সম্পৃক্ততা স্বাভাবিক এবং এটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত বা অনৈতিক প্রচারণা বলা যায় না। জনপরিসরে থাকা আলোচনায় সরকারের উপস্থিতি বিরোধী মত দমন করে না; বরং নিশ্চিত করে যে নাগরিকরা বুঝেশুনে সংস্কার বিষয়ে মতামত দিতে পারেন।
৬. উপসংহার: নীতিগত লঙ্ঘন নয়, গণতান্ত্রিক দায়িত্ব
এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সমর্থনে নয়, বরং দ্বিধা ও নীরবতায়। যে সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, তা সমর্থন না করলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে, ভোটাররা বিভ্রান্ত হবে এবং পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে।
'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ কারণ—
অন্তর্বর্তী সরকারের রয়েছে সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট
প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের জরুরি প্রয়োজনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যতা
ভোটারদের প্রতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতি
শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণেরই। এটাই গণতন্ত্রের নিশ্চয়তা। নেতৃত্ব সেই সিদ্ধান্ত কেড়ে নেয় না; বরং তা স্পষ্ট ও অর্থবহ করতে সহায়তা করে।’
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের কনিষ্ঠ কন্যা ফোবি অ্যাডেল গেটস। ২৩ বছর বয়সী এই তরুণী তার ব্যক্তিগত জীবন আর পেশাগত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রায়ই থাকেন আলোচনায়। এবার ফের শিরোনামে এলেন প্রেমের খবর নিয়ে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নতুন সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছেন ফোবি। তবে এই প্রেম একেবারে নতুন নয়; শৈশব থেকেই গড়ে উঠেছে তাদের সম্পর্কটি। ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করেন ফোবি। ছবিতে দেখা যায়, তার শৈশবের বন্ধু চ্যাজ ফ্লিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে ধরা দিয়েছেন বিল গেটস কন্যা। ক্যাপশনে শুধু একটি লাভ ইমোজি! আর তাতেই নেটদুনিয়ায় শুরু আলোচনা। পোস্টটি প্রকাশের পরই অনুরাগীদের মন্তব্যে ভরে ওঠে কমেন্ট বক্স। কেউ অভিনন্দন জানাচ্ছেন, কেউ আবার মজা করে লিখেছেন, ‘পুরনো ভালোবাসা যেন এবার স্থায়ী হয়।’ টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফোবি ও চ্যাজ একই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। সেই সময় তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের পাশাপাশি স্বল্প সময়ের জন্য সম্পর্কও ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এবার সেই পুরনো সম্পর্কই নতুন রূপে ফিরে এসেছে। এক সাক্ষাৎকারে ফোবি বলেছিলেন, ১৫ বছর বয়স থেকে চ্যাজকে চেনেন তিনি। এর আগে ব্রিটিশ সংগীত কিংবদন্তি পল ম্যাককার্টনির নাতি আর্থার ডোনাল্ডের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়েছিলেন ফোবি। ২০২৩ সালের শেষ দিকে তাদের প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায়, এরপর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি ফোবি নিজেই নিশ্চিত করেন বিষয়টি। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ দিকে সেই সম্পর্কে ইতি টানে দুজন। এদিকে ব্রেকাপের এক মাস বাদেই নতুন সম্পর্কের ইঙ্গিত দিলেন এই ধনকুবেরের কন্যা; যা নিয়ে তার ভক্ত মহলে ব্যাপক আলোচনা। ফোবি বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফ্যাশন শপিং টুল ‘ফিয়া’ নিয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে দেশিয় অস্ত্রসহ আতিক হাসান (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে বিজিবি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে করে পাটগ্রাম থানায় সোপর্দ করেছেন। এর আগে ভোরে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীনস্থ পঁয়ষট্টিবাড়ি বিওপির একটি টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তার আতিক হাসান পাটগ্রামের সীমান্তপাড়া এলাকার মো. বজলার রহমানের ছেলে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত মেইন পিলার-৮৪৬ এর কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আউলিয়ার হাট নামক স্থানে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে দেখে অভিযান চালায় বিজিবি। এসময় আতিক হাসানকে আটক করা সম্ভব হলেও তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন পালিয়ে যান। আটক আতিকের কাছ থেকে ২ ফুট ৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি ছুরি এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রীরামপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে চোরাচালান করতে গিয়ে তিনি বিজিবির হাতে ধরা পড়েন। অভিযান চলাকালীন পালিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন— মো. জুলফিকার আলী (৩৫) ও মো. রহিদুল (৪২)। বিজিবি জানিয়েছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, বিজিবি আতিক হাসানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে থানায় দিয়েছেন। তাকে লালমনিরহাট জেলহাজতে পাঠানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের দিন-তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। শনিবার সকালে সিলেটের একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে আলোচনা চলমান। তবে সফরের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা আছে।’ এ সময় প্রতিমন্ত্রী মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছুই নয়। জাতীয় ইন্টারেস্টের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে।’ চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আরো কেনা হবে।’
ঈদের ছুটির পরও রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভিড় বাড়ছে। কোথাও দীর্ঘ লাইন, কোথাও আবার ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড– এই বাস্তবতায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মোটরসাইকেল চালক থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক সবার প্রশ্ন একটাই– দেশে উৎপাদন থাকলে পেট্রোল-অকটেনের এমন সংকট কেন? খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, সম্ভাব্য বাজার কারসাজি এবং আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা– এগুলোর সমন্বয়ে পেট্রোল ও অকটেনের বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, কঠোর নজরদারি এবং ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা– এই তিনটি দিকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। জ্বালানি খাতের তথ্য বলছে, দেশে পেট্রোলের পুরো চাহিদাই দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পেট্রোলের মোট চাহিদা ছিল চার লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন, যার শতভাগই দেশে উৎপাদন হয়েছে। অপরিশোধিত তেল থেকে ১৬ শতাংশ উৎপাদন করে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। বাকি ৮৪ শতাংশ বেসরকারি রিফাইনারি থেকে উৎপাদিত হয়। অকটেনের ক্ষেত্রেও বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়, মূলত কনডেনসেট থেকে। প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের সময় পাওয়া এই উপজাত তরল পদার্থ পরিশোধন করে অকটেন তৈরি করা হয়। গত অর্থবছরে প্রায় পাঁচ লাখ ৯৭ হাজার টন কনডেনসেট সংগ্রহ ও পরিশোধন করা হয়েছে। তবে অকটেনের চাহিদা পূরণে ঘাটতি রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চার লাখ ১৫ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৮৩ টন এমন অকটেন আমদানি করে বিপিসি। গত পাঁচ বছরে পেট্রোল ও অকটেনের ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে পেট্রোল বিক্রি হয়েছিল তিন লাখ ৭৮ হাজার টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৬২ হাজার টনে। একই সময়ে অকটেনের ব্যবহার তিন লাখ টন থেকে বেড়ে চার লাখ ১৫ হাজার টনে পৌঁছেছে। পাম্প মালিকদের অভিযোগ, সমস্যার বড় অংশই সরবরাহ চেইনে। পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম সমকালকে বলেন, ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পেট্রোল-অকটেন দেশেই উৎপাদিত–তাই এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। তাঁর দাবি, বেসরকারি কনডেনসেট রিফাইনারি ইউনিটগুলো দাম বাড়ার আশায় সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাউদার্ন পাম্পে বুধবার দুপুরে দেখা যায়, অকটেন নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন অন্তত ৩০-৪০ চালক। তাদের একজন রাইডার শামীম বলেন, তেলের জন্য এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে। পাম্পটির একজন কর্মকর্তা জানান, গত বছর এই সময়ে তারা প্রতিদিন প্রায় ১৬ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি করতেন। কিন্তু এখন সরবরাহ অনিয়মিত। মঙ্গলবার পেয়েছেন মাত্র চার হাজার লিটার এবং বুধবার ৯ হাজার লিটার। তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকও পাচ্ছি না, তাই সবাইকে দিতে পারছি না। বিপিসির এক কর্মকর্তা বলেন, মজুত মোটামুটি রয়েছে; কিন্তু আগামী দিনগুলোর কথাও ভাবতে হবে। হুট করে কোনো চালান আটকে গেলে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। তাই সরবরাহ চেইনে একটু লাগাম দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেইনও বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। তাঁর মতে, উৎপাদনের উৎস ঠিক আছে, কিন্তু সরবরাহে সমস্যা হলে সেটি বাজার কারসাজির ইঙ্গিত হতে পারে। সরকারকে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। সরকার বলছে, সংকটকে আরও তীব্র করছে আতঙ্কে কেনাকাটা। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, যে পরিমাণ তেল কয়েক দিনে শেষ হওয়ার কথা, তা কয়েক ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ছে। জ্বালানির দাম বাড়ছে না– এটি স্পষ্ট। তাই কেউ মজুত করে লাভবান হতে পারবে না। মজুতের চিত্র দেশে অকটেনের মজুত সক্ষমতা ৫৩ হাজার ৩৬১ টন। মার্চ মাসে এর গড় চাহিদা ছিল ৩৬ হাজার ৭০০ টন। গত মঙ্গলবারের তথ্য বলছে, অকটেনের মজুত ৯ হাজার ৮২৯ টনে নেমে এসেছে। দৈনিক এক হাজার ১৯৩ টন সরবরাহ বিবেচনায় দেশে এখন মাত্র আট দিনের অকটেন মজুত রয়েছে। দেশে পেট্রোলের মজুত সক্ষমতা ৩৭ হাজার ১৩ টন। চলতি মার্চ মাসে পণ্যটির গড় চাহিদা দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ১০০ টনে। বর্তমানে পেট্রোলের মজুত রয়েছে ১৬ হাজার ২২৫ টন। দৈনিক গড়ে এক হাজার ৪৯৬ টন সরবরাহ বিবেচনায় এই মজুতে আর মাত্র ১১ দিন চলা যাবে।
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় সেখানে পৌঁছেছেন তিনি। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। বিএনপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। নেতাকর্মীরা জানান, বিমানবন্দর থেকে তাকে বহনকারী বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসযোগে তিনি সৈয়দপুর শহর হয়ে দিনাজপুরের দিকে রওনা হবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া নামকস্থানে ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের মাধ্যমে একযোগে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি দেশের ৫৪টি জেলার খাল খনন কর্মসূচিরও উদ্বোধন করবেন।