রাজধানী

মানব সেবায় অনন্য বাতিঘর:  অ্যাড.শিমুল বিশ্বাস ও এবি ট্রাস্ট

Admin সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0

ইমরুল কায়েস 


পাবনার সুবিধাবঞ্চিত,অসহায়, দরিদ্র তথা প্রান্তিক মানুষের কাছে আলহাজ আহেদ আলী বিশ্বাস ‘মানবকল্যাণ ট্রাস্ট’ (এবি ট্রাস্ট )একটি অনন্য নাম,একটি পরম ভরসার প্রতীক। দরিদ্র,অষহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তা এবং মানব উন্নয়নে এই ট্রাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। জেলার কুঠিপাড়া, কিসমতপ্রতাপপুরে গড়ে ওঠা এবি ট্রাস্টের সার্বিক নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় আছেন প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা,সমাজ সংস্কারক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারি অ্যাভোকেট শামছুর রহমান শিমুর বিশ্বাস,এমপি। তাঁর নেতৃত্বে এবি ট্রাস্ট ২০০৭ সালের ১৩ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়।শিমুল বিশ্বাসের বলিষ্ঠ ও মানবিক নেতৃত্বে অরাজনৈতিক ও সম্পূর্ণ কল্যাণমুখী এই ট্রাস্টটি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে শিক্ষা,স্বাস্থ্য,দুর্যোগ মোকাবেলা,আবাসন,প্রতিবন্ধী কল্যাণ,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি ও সংস্কার এবং পরিবেশ রক্ষায় এক অভূতপূর্ব ও যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে চলেছে। সেবা ও সহায়তার ক্ষেত্রে এবি ট্রাস্ট কখনও জাত-পাত,ধর্ম,বর্ণ,গোত্র, নারী-পুরুষ ভেদাভেদ করে না।  

শিক্ষা ও তথ্য-প্রযুক্তি প্রসারে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ

অ্যাড.শিমুল বিশ্বাসের যৌথ পরিবার শহরাঞ্চলে প্রায় ৫ একর এবং গ্রামাঞ্চলে প্রায় ১১০ একর জমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি কলেজ,এতিমখানা,আধুনিক পাঠাগার এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেতে দান করেছে। ট্রাস্ট পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩,৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত বৃত্তি ও বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী প্রদানের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করতে আধুনিক আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন

অসহায় মানুষকে কেবল সাময়িক সাহায্য না দিয়ে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার দর্শনে বিশ্বাসী এ্যাড. শিমুল বিশ্বাস। এ লক্ষ্যে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ট্রাস্ট থেকে বিনামূল্যে সিএনজি ও অটোরিকশা বিতরণ করা হয়। এর পাশাপাশি গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে একটি আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখছে এবি ট্রাস্ট। উপকারভোগী শত শত মানুষ ট্রাস্টের এই মহতী উদ্যোগে আজ কতৃজ্ঞ। নারীদের সমাজের উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত করার নীতিতে বিশ্বাস করে ট্রাস্ট। এ লক্ষ্যে অসচ্ছল ও দরিদ্র নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, ক্ষুদ্র উদ্যোগে সহায়তা দেয়া এবং গবাদি পশু কিনে দেয়া হয়। তরুণ-তরুণীদের আত্মকর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীল করতে কারিগরি শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে ট্রাস্ট আইটি প্রশিক্ষণ ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে।

আবাসন নিশ্চিতকরণ ও দুস্থদের পাশে দাঁড়ানো

গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ট্রাস্ট দীর্ঘমেয়াদী গৃহায়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ পর্যন্ত অসংখ্য অসহায় ও দুস্থ পরিবারের জন্য নতুন আবাসন নির্মাণ ও ঘর মেরামতে সহায়তা দেয়া হয়েছে। শারী‌রিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের স্বাভাবিক চলাচলের সুবিধার্থে নিয়মিত হুইলচেয়ার বিতরণ এবং আর্থিক অনুদান দেয়া হয়। নিশ্চিত করা হয় সমাজের অসহায়,প্রবীণ ও বিধবা নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা। এছাড়া দুই ঈদের সময়, রমজান মাসে এবং বছরের অন্যান্য সময় অসহায়,দুস্থ,প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধীদের নগদ আর্থিক সহায়তা,চাল-ডাল-তেল খাবারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য দিয়ে নিয়মিত সহায়তা করা হয়। 

ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে মসজিদ,মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা

ধর্মীয় সম্প্রীতি,সামাজিক সৌহার্দ্য বিকাশ ও নৈতিক জীবনচর্চার লক্ষ্যে ট্রাস্টের উদ্যোগে পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধর্মীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
বহু এলাকায় নতুন মসজিদ নির্মাণ ও পুরাতন মসজিদগুলোর আধুনিকায়ন এবং পুনঃসংস্কার করা হয়েছে। মুসল্লিদের জন্য অসংখ্য মসজিদের ওজুখানা ও আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ট্রাস্ট। শিশুদের দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বেশ কিছু হাফেজিয়া ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া এতিম শিশুদের নিরাপদ আবাসন,উন্নত-পুষ্টিকর খাদ্য ও শিক্ষার সুন্দর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এতিমখানা ও মানবিক পরিচর্যা কেন্দ্র নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর ও গেট নির্মাণ এবং গ্রামীণ কবরস্থানগুলোর সংস্কার ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। 
ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ট্রাস্ট মন্দির, গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ট্রাস্ট বিভিন্ন শ্মশানের সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুবিধা সম্প্রসারণে সহায়তা দিয়ে আসছে।

অসহায়দের বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা

অসহায় দরিদ্র অসুস্থ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ট্রাস্ট প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত আয়োজন করা হয় চিকিৎসা শিবির যাত দরিদ্র অসুস্থ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারে। অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। এছাড়া রোগ প্রতিরোধে নিরাপদ পানি ব্যবহার,ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সুষম পুষ্টি গ্রহণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনাচরন গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে ট্রাস্ট। 

প্রাকৃতিক দুর্যোগে জরুরি সহায়তা

প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা বৈরিতার সময় বিপন্ন সাধারণ মানুষের সেবায় এবি ট্রাস্ট অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছর শীতের সময় হাজার হাজার অসহায় মানুষ ও শীতার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসম্মত শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যা, মহামারী বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে দুর্গতদের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী,জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়ে ট্রাস্টটি মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় এবি ট্রাস্ট দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে চলেছে। ট্রাস্টের উদ্যোগে পাবনার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। ভরাট হয়ে যাওয়া পাবনা ইছামতি নদীর প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশ খনন এবং ৫ কিলোমিটারের বেশি অংশে অবৈধ দখলমুক্ত করে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবি ট্রাস্ট পালন করেছে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার

আগামী দিনগুলোতে সমাজসেবার এই পরিধিকে আরও বৃহৎ আকারে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে এবি ট্রাস্ট।
ট্রাস্টের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩,৫০০ থেকে ১০,০০০-এ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে দরিদ্র রোগীরা শতভাগ বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন।
কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে আরও ১০,০০০ বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে জেলাকে শতভাগ স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস।

সার্বিকভাবে, অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের মানবিক মূল্যবোধ,সততা ও স্বচ্ছ জবাবদিহিতার নীতিকে ধারণ করে এবি ট্রাস্ট একটি টেকসই,বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে নিরলস অবদান রেখে চলেছে,যা দেশের সমগ্র মানবকল্যাণমূলক সংগঠনের জন্য একটি অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

Popular post
বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত

আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।  শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী)  সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান,  ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে  ও  বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,  বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক,  বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল,  বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী  ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে ওসমান হাদিকে

উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে: পরীমনি

অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী।   পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান।   যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’   তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী।   বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি।  পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’   সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা।   এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।

সীমান্তে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার-১

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে দেশিয় অস্ত্রসহ আতিক হাসান (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে বিজিবি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে করে পাটগ্রাম থানায় সোপর্দ করেছেন। এর আগে ভোরে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীনস্থ পঁয়ষট্টিবাড়ি বিওপির একটি টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তার আতিক হাসান পাটগ্রামের সীমান্তপাড়া এলাকার মো. বজলার রহমানের ছেলে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত মেইন পিলার-৮৪৬ এর কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আউলিয়ার হাট নামক স্থানে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে দেখে অভিযান চালায় বিজিবি। এসময় আতিক হাসানকে আটক করা সম্ভব হলেও তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন পালিয়ে যান। আটক আতিকের কাছ থেকে ২ ফুট ৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি ছুরি এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রীরামপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে চোরাচালান করতে গিয়ে তিনি বিজিবির হাতে ধরা পড়েন। অভিযান চলাকালীন পালিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন— মো. জুলফিকার আলী (৩৫) ও মো. রহিদুল (৪২)। বিজিবি জানিয়েছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, বিজিবি আতিক হাসানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে থানায় দিয়েছেন। তাকে লালমনিরহাট জেলহাজতে পাঠানো হবে। 

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী সায়েন্টিফিক সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠিত

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী সায়েন্টিফিক সেমিনারের সমাপনী শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয়বারের মত এই সেমিনারের আয়োজন করেছে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। দুই দিনব্যাপী সেমিনারে ২০ টি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেছেন আমন্ত্রিত ও অংশগ্রহণকারী গবেষকবৃন্দ। শুক্রবার সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এ অনুষ্ঠিত সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহম্মদ ও হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের সহযোগী পরিচালক ড. এমেলী আক্তার। সেমিনারে অংশ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, কৃষি, মৎস্য-প্রাণিসম্পদ সংক্রান্ত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। দুই দিনব্যাপী সেমিনারের শেষ দিনের প্রথম সেশনে সেশন চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের ডেপুটি ডিরেক্টর কৃষিবিদ মো. আক্তারুজ্জামান ও মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন হবিগঞ্জের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরীফুল আলম। দ্বিতীয় সেশনে সেশন চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ রিসোর্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অরুণ চন্দ্র বর্মন ও মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যান্ট প্রটেকশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কেন্দ্রের চীফ সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মোঃ হারুন-অর-রশীদ ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশের সাবেক ন্যাশনাল টেকনিক্যাল এডভাইজার ড. মোঃ হাবিবুর রহমান৷ কৃষি, পরিবেশ, প্রাণিস্বাস্থ্য ও সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা উপস্থাপিত হয়। এসব গবেষণায় ফসলের রোগ ও পোকামাকড়ের জৈবিক প্রক্রিয়া, টেকসই কৃষি ব্যবস্থায় উৎপাদন ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের ফলন ও গুণগত মান, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কৃষি রোগ শনাক্তকরণ, প্রাণিসম্পদের পুষ্টি ও প্রজননস্বাস্থ্য, সংক্রামক রোগ ও পরজীবীজনিত সমস্যার বিস্তার এবং নগর সমাজের কিশোর অপরাধের মতো সামাজিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। দুই দিনব্যাপী সায়েন্টিফিক সেমিনার আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি।

ইসমাইল বাবু

রাজধানী

View more
মানব সেবায় অনন্য বাতিঘর:  অ্যাড.শিমুল বিশ্বাস ও এবি ট্রাস্ট

ইমরুল কায়েস  পাবনার সুবিধাবঞ্চিত,অসহায়, দরিদ্র তথা প্রান্তিক মানুষের কাছে আলহাজ আহেদ আলী বিশ্বাস ‘মানবকল্যাণ ট্রাস্ট’ (এবি ট্রাস্ট )একটি অনন্য নাম,একটি পরম ভরসার প্রতীক। দরিদ্র,অষহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তা এবং মানব উন্নয়নে এই ট্রাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। জেলার কুঠিপাড়া, কিসমতপ্রতাপপুরে গড়ে ওঠা এবি ট্রাস্টের সার্বিক নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় আছেন প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা,সমাজ সংস্কারক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারি অ্যাভোকেট শামছুর রহমান শিমুর বিশ্বাস,এমপি। তাঁর নেতৃত্বে এবি ট্রাস্ট ২০০৭ সালের ১৩ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়।শিমুল বিশ্বাসের বলিষ্ঠ ও মানবিক নেতৃত্বে অরাজনৈতিক ও সম্পূর্ণ কল্যাণমুখী এই ট্রাস্টটি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে শিক্ষা,স্বাস্থ্য,দুর্যোগ মোকাবেলা,আবাসন,প্রতিবন্ধী কল্যাণ,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি ও সংস্কার এবং পরিবেশ রক্ষায় এক অভূতপূর্ব ও যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে চলেছে। সেবা ও সহায়তার ক্ষেত্রে এবি ট্রাস্ট কখনও জাত-পাত,ধর্ম,বর্ণ,গোত্র, নারী-পুরুষ ভেদাভেদ করে না।   শিক্ষা ও তথ্য-প্রযুক্তি প্রসারে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ অ্যাড.শিমুল বিশ্বাসের যৌথ পরিবার শহরাঞ্চলে প্রায় ৫ একর এবং গ্রামাঞ্চলে প্রায় ১১০ একর জমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি কলেজ,এতিমখানা,আধুনিক পাঠাগার এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেতে দান করেছে। ট্রাস্ট পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩,৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত বৃত্তি ও বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী প্রদানের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করতে আধুনিক আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অসহায় মানুষকে কেবল সাময়িক সাহায্য না দিয়ে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার দর্শনে বিশ্বাসী এ্যাড. শিমুল বিশ্বাস। এ লক্ষ্যে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ট্রাস্ট থেকে বিনামূল্যে সিএনজি ও অটোরিকশা বিতরণ করা হয়। এর পাশাপাশি গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে একটি আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখছে এবি ট্রাস্ট। উপকারভোগী শত শত মানুষ ট্রাস্টের এই মহতী উদ্যোগে আজ কতৃজ্ঞ। নারীদের সমাজের উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত করার নীতিতে বিশ্বাস করে ট্রাস্ট। এ লক্ষ্যে অসচ্ছল ও দরিদ্র নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, ক্ষুদ্র উদ্যোগে সহায়তা দেয়া এবং গবাদি পশু কিনে দেয়া হয়। তরুণ-তরুণীদের আত্মকর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীল করতে কারিগরি শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে ট্রাস্ট আইটি প্রশিক্ষণ ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। আবাসন নিশ্চিতকরণ ও দুস্থদের পাশে দাঁড়ানো গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ট্রাস্ট দীর্ঘমেয়াদী গৃহায়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ পর্যন্ত অসংখ্য অসহায় ও দুস্থ পরিবারের জন্য নতুন আবাসন নির্মাণ ও ঘর মেরামতে সহায়তা দেয়া হয়েছে। শারী‌রিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের স্বাভাবিক চলাচলের সুবিধার্থে নিয়মিত হুইলচেয়ার বিতরণ এবং আর্থিক অনুদান দেয়া হয়। নিশ্চিত করা হয় সমাজের অসহায়,প্রবীণ ও বিধবা নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা। এছাড়া দুই ঈদের সময়, রমজান মাসে এবং বছরের অন্যান্য সময় অসহায়,দুস্থ,প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধীদের নগদ আর্থিক সহায়তা,চাল-ডাল-তেল খাবারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য দিয়ে নিয়মিত সহায়তা করা হয়।  ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে মসজিদ,মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা ধর্মীয় সম্প্রীতি,সামাজিক সৌহার্দ্য বিকাশ ও নৈতিক জীবনচর্চার লক্ষ্যে ট্রাস্টের উদ্যোগে পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধর্মীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। বহু এলাকায় নতুন মসজিদ নির্মাণ ও পুরাতন মসজিদগুলোর আধুনিকায়ন এবং পুনঃসংস্কার করা হয়েছে। মুসল্লিদের জন্য অসংখ্য মসজিদের ওজুখানা ও আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ট্রাস্ট। শিশুদের দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বেশ কিছু হাফেজিয়া ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া এতিম শিশুদের নিরাপদ আবাসন,উন্নত-পুষ্টিকর খাদ্য ও শিক্ষার সুন্দর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এতিমখানা ও মানবিক পরিচর্যা কেন্দ্র নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর ও গেট নির্মাণ এবং গ্রামীণ কবরস্থানগুলোর সংস্কার ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।  ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ট্রাস্ট মন্দির, গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ট্রাস্ট বিভিন্ন শ্মশানের সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুবিধা সম্প্রসারণে সহায়তা দিয়ে আসছে। অসহায়দের বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা অসহায় দরিদ্র অসুস্থ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ট্রাস্ট প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত আয়োজন করা হয় চিকিৎসা শিবির যাত দরিদ্র অসুস্থ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারে। অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। এছাড়া রোগ প্রতিরোধে নিরাপদ পানি ব্যবহার,ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সুষম পুষ্টি গ্রহণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনাচরন গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে ট্রাস্ট।  প্রাকৃতিক দুর্যোগে জরুরি সহায়তা প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা বৈরিতার সময় বিপন্ন সাধারণ মানুষের সেবায় এবি ট্রাস্ট অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছর শীতের সময় হাজার হাজার অসহায় মানুষ ও শীতার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসম্মত শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যা, মহামারী বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে দুর্গতদের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী,জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়ে ট্রাস্টটি মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় এবি ট্রাস্ট দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে চলেছে। ট্রাস্টের উদ্যোগে পাবনার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। ভরাট হয়ে যাওয়া পাবনা ইছামতি নদীর প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশ খনন এবং ৫ কিলোমিটারের বেশি অংশে অবৈধ দখলমুক্ত করে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবি ট্রাস্ট পালন করেছে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার আগামী দিনগুলোতে সমাজসেবার এই পরিধিকে আরও বৃহৎ আকারে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে এবি ট্রাস্ট। ট্রাস্টের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩,৫০০ থেকে ১০,০০০-এ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে দরিদ্র রোগীরা শতভাগ বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে আরও ১০,০০০ বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে জেলাকে শতভাগ স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস। সার্বিকভাবে, অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের মানবিক মূল্যবোধ,সততা ও স্বচ্ছ জবাবদিহিতার নীতিকে ধারণ করে এবি ট্রাস্ট একটি টেকসই,বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে নিরলস অবদান রেখে চলেছে,যা দেশের সমগ্র মানবকল্যাণমূলক সংগঠনের জন্য একটি অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

Admin সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0

প্যাকেটজাত খাবারে এফওপিএল বাস্তবায়নের দাবিঃ টিএসসিতে ‘শালুকডাঙার কথা’ পরিবেশন করল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদ

জেল খেটেও থামেনি ভূমিদস্যুতা? সাবেক এমপি এম এ আউয়ালের বিরুদ্ধে ১৯ পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ

ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুত করা হচ্ছে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী

সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার

সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর গুলশান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।  ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  তিনি জানান, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে বুধবার সকালে রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতে হাজিরা দেন লতিফ সিদ্দিকী। পরে আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে সাবেক এই মন্ত্রী জানান, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি ১০ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন। এ মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার না করলে আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গিয়ে আত্মসমর্পণ করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এ মামলায় বর্তমানে নয় আসামি গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু। এর আগে চিফ প্রসিকিউটর জানান, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ জনের নিহতের প্রমাণ পেয়েছে প্রসিকিউশন। ২০১৩ সালে ৫ মে দিনভর হেফাজতের সমাবেশ শেষে রাতে শাপলা চত্বরে জমায়েতে নৃশংস হামলা চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ৫ আগস্টের পর এ ঘটনার তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেয় হেফাজতে ইসলাম।

Admin জুলাই ২৯, ২০২৬ 0

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য, বিদ্যুৎ চুরিতে নাজেহাল নগরবাসী

জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য হলেন আকতার হাবিব

দূরপাল্লার বাস ভাড়ার নতুন তালিকা প্রকাশ, কোন রুটে কত ভাড়া

ইফাতে জনসংযোগ প্রধান হিসেবে ফিরলেন কবি-সাংবাদিক বিল্লাল বিন কাশেম

​নিজস্ব প্রতিবেদক। ​দেশের বিশিষ্ট কবি, কথাসাহিত্যিক ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক বিল্লাল বিন কাশেম সোহেল পুনরায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) জনসংযোগ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সৃজনশীল সাহিত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় সুপরিচিত এই ব্যক্তিত্বের প্রত্যাবর্তনকে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি উন্নয়নে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ​অভিজ্ঞতা ও কর্মজীবনের মেলবন্ধন ​২০০২ সালে সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করা বিল্লাল বিন কাশেম দীর্ঘ সময় জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি আইসিটি, প্রকাশনা এবং বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক হিসেবেও সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ​সাহিত্যাঙ্গনে উজ্জ্বল নাম ​প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যেও তিনি এক স্বতন্ত্র নাম। তার কাব্যগ্রন্থ ‘অনুরণন’ এবং উপন্যাস ‘দূরে কোথায়’ পাঠকমহলে ব্যাপক সমাদৃত। সমাজসচেতন এই লেখকের লেখনীতে উঠে আসে মানুষের আবেগ ও সমসাময়িক বাস্তবতার নিপুণ চিত্র। ​পারিবারিক পরিচয় ​বিল্লাল বিন কাশেম একটি গুণী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মোঃ আবুল কাশেম এবং মাতা প্রয়াত গুলশান আরা বেগম। তার পরিবারের সদস্যরাও নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত: ​বড় ভাই: মোহাম্মদ বিন কাশেম জুয়েল (সমাজসেবক ও সংবাদপত্রের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক)। ​ছোট ভাই: ইলিয়াস বিন কাশেম রাসেল (জাতীয় টেলিভিশনের নিউজ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স প্রধান)। ​ছোট বোন: ফারহানা আফরোজ (বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা)। ​ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক কন্যা সন্তানের (ফারিহা জাহিন) জনক। ​নতুন প্রত্যাশা ​জনসংযোগ প্রধান হিসেবে তার মূল চ্যালেঞ্জ হবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে গণমাধ্যম ও জনসাধারণের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা। তথ্যপ্রবাহ সচল রাখা এবং আইসিটি ভিত্তিক প্রচারণায় তার পূর্ব অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ​একই সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেও তার সাহিত্যচর্চা অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি নতুন কাব্যগ্রন্থ ও গবেষণামূলক কাজ নিয়ে পরিকল্পনা করছেন। ​

Admin এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0

আন্তর্জাতিক পথশিশু দিবসে শতাধিক শিশুকে খাবার ও উপহার দিল ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস

টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

বাড়তি ভাড়া নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

0 Comments