সারাদেশ

জামায়াত করার অপরাধে হাতকড়ায় “রিমান্ডে বীরমুক্তিযোদ্ধা”আক্তারুজ্জামান

Admin সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0

|||ফিরে দেখা|||

আব্দুল্লাহ আল মানছুর, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি//

কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাতবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক বাবা আলতাফ আলীর ঘরে ১৯৫৫ সালে জম্মগ্রহন করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আক্তারুজ্জামান। মা রজ্জবের নেছা ছিলেন গৃহিনী। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জীবনের মায়া ভুলে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করার জন্য নিজ পৈতৃক জম্মস্থান চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাতবাড়ীয়া থেকে বাবা মা’কে না জানিয়ে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন গেজেট ভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আক্তারুজ্জামান। 

বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৮২সালে বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান তৎকালীণ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র কুমিল্লা জেলার নেতা মাস্টার আব্দুর রব ও কুমিল্লা জেলা জামায়াত নেতা চৌয়ারা কলেজের অধ্যাপক হাবীবুর রহমানের হাতে হাত রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে সদস্য হিসেবে যোগদান করেন।

পরবর্তীতে ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চৌদ্দগ্রাম থানা কমিটির নাজেম হিসেবে বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আক্তারুজ্জামানকে  শপথ পাঠ করান কুমিল্লা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা অধ্যাপক হাবীবুর রহমান। ইসলামী আন্দোলন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াত পৌঁছে দেন সাতবাড়িয়া গ্রামের কৃতি সন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান।

১৯৮৬ সালে রুকনত্ব লাভ করার পর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র চৌদ্দগ্রাম থানা আমীর হিসেবে ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৪সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান রাজনীতির পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারন বিভাগেও চাকরি করেছেন। ইসলামী আন্দোলনের কাজ করতে গিয়ে আক্তারুজ্জামানের উপর অতর্কিত হামলা চালায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ৯০ দশকের পর জামায়াত নেতা আক্তারুজ্জামানকে সাবেক হুইফ মুজিবুল হক দল ত্যাগ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে যোগদান করার নির্দেশ দিলেও তা প্রত্যাক্ষান করেন চৌদ্দগ্রাম থানা আমীর বীরমুক্তিযোদ্ধা  মো.আক্তারুজ্জামান। 

গেজেটভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা জামায়াত নেতা আক্তারুজ্জামানের  প্রতি আওয়ামী সন্ত্রাসী মুজিবুল হকের অমানবিক আচারণ ও নির্যাতন শুরু হয় একের পর এক। জামায়াতে ইসলামী দল করার কারনে মো. আক্তারুজ্জামানকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাতবাড়িয়া'র পৈতৃক গ্রাম ত্যাগ করতে বাধ্য করান তৎকালীন হুইপ মুজিবুল হক এমপি। নিজ বাড়ি ত্যাগ করে জামায়াত নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান ছুটে আসেন কুমিল্লা সদর উপজেলার বারপাড়া গ্রামে । এরপর ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা জেলা’র অফিস সেক্রেটারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ এই নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানকে স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ বহুবার নির্যাতন চালালেও জামায়াতে ইসলামী থেকে দল ত্যাগে বাধ্য করতে পারেনি।

 আওয়ামীলীগ কর্তৃক বহু নির্যাতন জুলম এর বিষয়ে গেজেটভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান প্রতিবেদককে বলেন-আওয়ামী ফ্যাষ্টিদের নির্যাতনের কারনে চৌদ্দগ্রামের পৈতৃক বাড়িতে থাকতে পারিনি। বিগত ১৫ বছর বীরমুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ছাড়া কোন প্রকার রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহন করতে পারিনি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর সাবেক এমপি ডা.সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো.তাহের এর একনিষ্ঠ কর্মী হওয়ায় ২০১৮ সালের ১৩ আগষ্টে চৌদ্দগ্রাম উপজেলাধীন সাতবাড়ীয়া গ্রামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠানিক প্রোগ্রাম শেষ করে নিজ পৈতৃক বাড়িতে সকালের নাস্তা করার সময় শত শত জনগণের সামনে তৎকালীণ রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক ও কাশিনগর ইউনিয়নের মোশারেফ চেয়ারম্যানের নির্দেশে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আওয়ামী দোসর আবুল ফয়সাল ও এসআই আরিফের নির্দেশে প্রবীণ বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানকে আটক পূর্বক  হাতকড়া লাগিয়ে টেনে হেঁচড়ে পুলিশের ভ্যানে উঠানো হয়।

 বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান যখন ওসি আবুল ফয়সাল ও এসআই আরিফকে তাহার আটকের ওয়ারেন্ট আছে কিনা জানতে চাইলে প্রবীণ বীরমুক্তিযোদ্ধাকে পুলিশ কোন কথার উত্তর না দিয়ে গেজেটভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান(৬৫) ও তাহার বাড়ির চাচা বৃদ্ধ ফজর আলী(৮০)সহ ৮/১০জনকে প্রিজন পুলিশের ভ্যানে চৌদ্দগ্রাম থানায় নিয়ে আটক রাখেন। রাতের গভীরে তৎকালীন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হকের নির্দেশে চৌদ্দগ্রাম থানায় শুরু হয় প্রবীণ বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানের উপর অমানবিক নির্যাতন। রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হকের নির্দেশে একদিন পর থানায় একাধিক মামলা হয় বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানের নামে।


 জামায়াত নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধার এক হাতে ২জনের হাতকড়া লাগিয়ে থানায় আটক পূর্বক মামলার রের্কড করা হয় বলে অভিযোগ করেন গেজেটভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান। বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রতিবেদককে আরো বলেন-স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার আমাকে অহেতুক কয়েকটি মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক রাখেন।  কারাগারে দীর্ঘদিন আটক রাখার পর অসুস্থ অবস্থায় পূণরায় ৩দিনের রিমান্ডে এনে চৌদ্দগ্রাম থানায় অমানবিক নির্যাতন চালান এসআই আরিফ। আমাকে হাতকড়া লাগিয়ে কুমিল্লা কেন্দ্রীয়  কারাগার থেকে রিমান্ডে নিয়ে আসে এসআই আরিফ। এমনকি হাতকড়া না খুলে আমাকে থানার ২য়তলা এসআইদের  ব্যারাকে নিয়ে বেধম ভাবে মানসিক নির্যাতন চালান। 

জি:আর মামলা নং-৩০৭/১৮,৪১৩/১৮সহ একাধিক গায়েবী মামলা করা হয়। রিমান্ডের নামে কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আমাকে কুমিল্লা কারাগার থেকে চৌদ্দগ্রাম থানায় আনা নেওয়া করা হয় যাহা সম্পূর্ণ বেআইনী। 

এদিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার প্রমোদ বাবু প্রতিবেদককে বলেন-বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান কে অন্যায় ভাবে সাবেক রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক আটক করিয়েছেন। সংগত কারণে বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানের গ্রেফতারের সময় বিবৃতি প্রদান করতে পারেনি কোন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন।

এ বিষয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা জেলার সমন্বয়ক রুবেল হোসাইন জানান-জামায়াত করার অপরাধে বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানের হাতে বিনা ওয়ারেন্টে হাতকড়া লাগান এস আই আরিফ। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। একজন খুনি মুক্তিযোদ্ধা কানুর জন্য প্রতিবাদ সংবাদ দেখেছি কিন্তু বীরমুক্তিযোদ্ধা জামায়াত নেতার হাতে হাতকড়া লাগিয়ে চৌদ্দগ্রাম পুলিশ টেনেছে এই চিত্র আমাদের চোঁখে এসেছে। কোন বীরমুক্তিযোদ্ধাকে রিমান্ডে হাতকড়া লাগিয়ে আনার যৌক্তিকতা আছে কিনা তা এখন জানার বিষয়। 

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় মনোনয়ন পাবেন কারা নির্যাতিত নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান এমনটি প্রত্যাশা করছেন কাশিনগর ইউনিয়ন এর  সাধারণ জনগণ । তিনি চেয়ারম্যান হলে নাগরিক সেবার মান শতভাগ নিশ্চিতসহ মাদক, সন্ত্রাসমুক্ত ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক ইউনিয়ন পরিষদ গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন। নির্যাতিত বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ এর সদস্য।

Popular post
বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত

আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।  শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী)  সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান,  ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে  ও  বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,  বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক,  বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল,  বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী  ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে ওসমান হাদিকে

উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে: পরীমনি

অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী।   পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান।   যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’   তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী।   বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি।  পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’   সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা।   এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।

সীমান্তে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার-১

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে দেশিয় অস্ত্রসহ আতিক হাসান (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে বিজিবি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে করে পাটগ্রাম থানায় সোপর্দ করেছেন। এর আগে ভোরে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীনস্থ পঁয়ষট্টিবাড়ি বিওপির একটি টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তার আতিক হাসান পাটগ্রামের সীমান্তপাড়া এলাকার মো. বজলার রহমানের ছেলে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত মেইন পিলার-৮৪৬ এর কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আউলিয়ার হাট নামক স্থানে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে দেখে অভিযান চালায় বিজিবি। এসময় আতিক হাসানকে আটক করা সম্ভব হলেও তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন পালিয়ে যান। আটক আতিকের কাছ থেকে ২ ফুট ৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি ছুরি এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রীরামপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে চোরাচালান করতে গিয়ে তিনি বিজিবির হাতে ধরা পড়েন। অভিযান চলাকালীন পালিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন— মো. জুলফিকার আলী (৩৫) ও মো. রহিদুল (৪২)। বিজিবি জানিয়েছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, বিজিবি আতিক হাসানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে থানায় দিয়েছেন। তাকে লালমনিরহাট জেলহাজতে পাঠানো হবে। 

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী সায়েন্টিফিক সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠিত

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী সায়েন্টিফিক সেমিনারের সমাপনী শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয়বারের মত এই সেমিনারের আয়োজন করেছে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। দুই দিনব্যাপী সেমিনারে ২০ টি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেছেন আমন্ত্রিত ও অংশগ্রহণকারী গবেষকবৃন্দ। শুক্রবার সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এ অনুষ্ঠিত সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহম্মদ ও হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের সহযোগী পরিচালক ড. এমেলী আক্তার। সেমিনারে অংশ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, কৃষি, মৎস্য-প্রাণিসম্পদ সংক্রান্ত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। দুই দিনব্যাপী সেমিনারের শেষ দিনের প্রথম সেশনে সেশন চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের ডেপুটি ডিরেক্টর কৃষিবিদ মো. আক্তারুজ্জামান ও মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন হবিগঞ্জের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরীফুল আলম। দ্বিতীয় সেশনে সেশন চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ রিসোর্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অরুণ চন্দ্র বর্মন ও মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যান্ট প্রটেকশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কেন্দ্রের চীফ সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মোঃ হারুন-অর-রশীদ ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশের সাবেক ন্যাশনাল টেকনিক্যাল এডভাইজার ড. মোঃ হাবিবুর রহমান৷ কৃষি, পরিবেশ, প্রাণিস্বাস্থ্য ও সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা উপস্থাপিত হয়। এসব গবেষণায় ফসলের রোগ ও পোকামাকড়ের জৈবিক প্রক্রিয়া, টেকসই কৃষি ব্যবস্থায় উৎপাদন ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের ফলন ও গুণগত মান, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কৃষি রোগ শনাক্তকরণ, প্রাণিসম্পদের পুষ্টি ও প্রজননস্বাস্থ্য, সংক্রামক রোগ ও পরজীবীজনিত সমস্যার বিস্তার এবং নগর সমাজের কিশোর অপরাধের মতো সামাজিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। দুই দিনব্যাপী সায়েন্টিফিক সেমিনার আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি।

ইসমাইল বাবু

সারাদেশ

View more
জামায়াত করার অপরাধে হাতকড়ায় “রিমান্ডে বীরমুক্তিযোদ্ধা”আক্তারুজ্জামান

|||ফিরে দেখা||| আব্দুল্লাহ আল মানছুর, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি// কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাতবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক বাবা আলতাফ আলীর ঘরে ১৯৫৫ সালে জম্মগ্রহন করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আক্তারুজ্জামান। মা রজ্জবের নেছা ছিলেন গৃহিনী। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জীবনের মায়া ভুলে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করার জন্য নিজ পৈতৃক জম্মস্থান চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাতবাড়ীয়া থেকে বাবা মা’কে না জানিয়ে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন গেজেট ভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আক্তারুজ্জামান।  বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৮২সালে বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান তৎকালীণ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র কুমিল্লা জেলার নেতা মাস্টার আব্দুর রব ও কুমিল্লা জেলা জামায়াত নেতা চৌয়ারা কলেজের অধ্যাপক হাবীবুর রহমানের হাতে হাত রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চৌদ্দগ্রাম থানা কমিটির নাজেম হিসেবে বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আক্তারুজ্জামানকে  শপথ পাঠ করান কুমিল্লা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা অধ্যাপক হাবীবুর রহমান। ইসলামী আন্দোলন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াত পৌঁছে দেন সাতবাড়িয়া গ্রামের কৃতি সন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান। ১৯৮৬ সালে রুকনত্ব লাভ করার পর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র চৌদ্দগ্রাম থানা আমীর হিসেবে ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৪সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান রাজনীতির পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারন বিভাগেও চাকরি করেছেন। ইসলামী আন্দোলনের কাজ করতে গিয়ে আক্তারুজ্জামানের উপর অতর্কিত হামলা চালায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ৯০ দশকের পর জামায়াত নেতা আক্তারুজ্জামানকে সাবেক হুইফ মুজিবুল হক দল ত্যাগ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে যোগদান করার নির্দেশ দিলেও তা প্রত্যাক্ষান করেন চৌদ্দগ্রাম থানা আমীর বীরমুক্তিযোদ্ধা  মো.আক্তারুজ্জামান।  গেজেটভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা জামায়াত নেতা আক্তারুজ্জামানের  প্রতি আওয়ামী সন্ত্রাসী মুজিবুল হকের অমানবিক আচারণ ও নির্যাতন শুরু হয় একের পর এক। জামায়াতে ইসলামী দল করার কারনে মো. আক্তারুজ্জামানকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাতবাড়িয়া'র পৈতৃক গ্রাম ত্যাগ করতে বাধ্য করান তৎকালীন হুইপ মুজিবুল হক এমপি। নিজ বাড়ি ত্যাগ করে জামায়াত নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান ছুটে আসেন কুমিল্লা সদর উপজেলার বারপাড়া গ্রামে । এরপর ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা জেলা’র অফিস সেক্রেটারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ এই নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানকে স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ বহুবার নির্যাতন চালালেও জামায়াতে ইসলামী থেকে দল ত্যাগে বাধ্য করতে পারেনি।  আওয়ামীলীগ কর্তৃক বহু নির্যাতন জুলম এর বিষয়ে গেজেটভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান প্রতিবেদককে বলেন-আওয়ামী ফ্যাষ্টিদের নির্যাতনের কারনে চৌদ্দগ্রামের পৈতৃক বাড়িতে থাকতে পারিনি। বিগত ১৫ বছর বীরমুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ছাড়া কোন প্রকার রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহন করতে পারিনি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর সাবেক এমপি ডা.সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো.তাহের এর একনিষ্ঠ কর্মী হওয়ায় ২০১৮ সালের ১৩ আগষ্টে চৌদ্দগ্রাম উপজেলাধীন সাতবাড়ীয়া গ্রামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠানিক প্রোগ্রাম শেষ করে নিজ পৈতৃক বাড়িতে সকালের নাস্তা করার সময় শত শত জনগণের সামনে তৎকালীণ রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক ও কাশিনগর ইউনিয়নের মোশারেফ চেয়ারম্যানের নির্দেশে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আওয়ামী দোসর আবুল ফয়সাল ও এসআই আরিফের নির্দেশে প্রবীণ বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানকে আটক পূর্বক  হাতকড়া লাগিয়ে টেনে হেঁচড়ে পুলিশের ভ্যানে উঠানো হয়।  বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান যখন ওসি আবুল ফয়সাল ও এসআই আরিফকে তাহার আটকের ওয়ারেন্ট আছে কিনা জানতে চাইলে প্রবীণ বীরমুক্তিযোদ্ধাকে পুলিশ কোন কথার উত্তর না দিয়ে গেজেটভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান(৬৫) ও তাহার বাড়ির চাচা বৃদ্ধ ফজর আলী(৮০)সহ ৮/১০জনকে প্রিজন পুলিশের ভ্যানে চৌদ্দগ্রাম থানায় নিয়ে আটক রাখেন। রাতের গভীরে তৎকালীন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হকের নির্দেশে চৌদ্দগ্রাম থানায় শুরু হয় প্রবীণ বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানের উপর অমানবিক নির্যাতন। রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হকের নির্দেশে একদিন পর থানায় একাধিক মামলা হয় বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানের নামে।  জামায়াত নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধার এক হাতে ২জনের হাতকড়া লাগিয়ে থানায় আটক পূর্বক মামলার রের্কড করা হয় বলে অভিযোগ করেন গেজেটভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান। বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রতিবেদককে আরো বলেন-স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার আমাকে অহেতুক কয়েকটি মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক রাখেন।  কারাগারে দীর্ঘদিন আটক রাখার পর অসুস্থ অবস্থায় পূণরায় ৩দিনের রিমান্ডে এনে চৌদ্দগ্রাম থানায় অমানবিক নির্যাতন চালান এসআই আরিফ। আমাকে হাতকড়া লাগিয়ে কুমিল্লা কেন্দ্রীয়  কারাগার থেকে রিমান্ডে নিয়ে আসে এসআই আরিফ। এমনকি হাতকড়া না খুলে আমাকে থানার ২য়তলা এসআইদের  ব্যারাকে নিয়ে বেধম ভাবে মানসিক নির্যাতন চালান।  জি:আর মামলা নং-৩০৭/১৮,৪১৩/১৮সহ একাধিক গায়েবী মামলা করা হয়। রিমান্ডের নামে কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আমাকে কুমিল্লা কারাগার থেকে চৌদ্দগ্রাম থানায় আনা নেওয়া করা হয় যাহা সম্পূর্ণ বেআইনী।  এদিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার প্রমোদ বাবু প্রতিবেদককে বলেন-বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান কে অন্যায় ভাবে সাবেক রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক আটক করিয়েছেন। সংগত কারণে বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানের গ্রেফতারের সময় বিবৃতি প্রদান করতে পারেনি কোন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন। এ বিষয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা জেলার সমন্বয়ক রুবেল হোসাইন জানান-জামায়াত করার অপরাধে বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানের হাতে বিনা ওয়ারেন্টে হাতকড়া লাগান এস আই আরিফ। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। একজন খুনি মুক্তিযোদ্ধা কানুর জন্য প্রতিবাদ সংবাদ দেখেছি কিন্তু বীরমুক্তিযোদ্ধা জামায়াত নেতার হাতে হাতকড়া লাগিয়ে চৌদ্দগ্রাম পুলিশ টেনেছে এই চিত্র আমাদের চোঁখে এসেছে। কোন বীরমুক্তিযোদ্ধাকে রিমান্ডে হাতকড়া লাগিয়ে আনার যৌক্তিকতা আছে কিনা তা এখন জানার বিষয়।  চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় মনোনয়ন পাবেন কারা নির্যাতিত নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান এমনটি প্রত্যাশা করছেন কাশিনগর ইউনিয়ন এর  সাধারণ জনগণ । তিনি চেয়ারম্যান হলে নাগরিক সেবার মান শতভাগ নিশ্চিতসহ মাদক, সন্ত্রাসমুক্ত ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক ইউনিয়ন পরিষদ গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন। নির্যাতিত বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ এর সদস্য।

Admin সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সাবেক এমপির স্ত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

ক্রসিংয়ে উঠেই বাসের তেল শেষ, ট্রেনের ধাক্কায় নারী-শিশুসহ নিহত ৫

ঢাকাগামী ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে আগুন

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় নিহত বেড়ে ২৩

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে ১১ জন নারী, ৮ শিশু ও ৪ জন পুরুষ। ২১ জনের মরদেহ ইতোমধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান। নিহতরা হলেন- রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর লালমিয়া সড়ক এলাকার মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮নং ওয়ার্ডের মজমপুর গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), রাজবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড সজ্জনকান্দা গ্রামের মৃত ডা. আবদুল আলীমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭), একই গ্রামের কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাইফ (৩০), গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২), কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার সমাজপুর ইউনিয়নের ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শিশু ইস্রাফিল (৩), গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে ফাইজ শাহানূর (১১), রাজবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭), বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখোলা গ্রামের আরব খানের ছেলে গাড়ী চালক আরমান খান (৩১), কালুখালী উপজেলার মহেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী নাজমিরা জেসমিন (৩০), রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোবাহান মণ্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬), সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড় চর বেনি নগর গ্রামের মান্নান মন্ডলের স্ত্রী জোছনা (৩৫), গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের নোয়াধা গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মথুয়ারাই গ্রামের  মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী নাছিমা (৪০), ঢাকা জেলার আশুলিয়া উপজেলার বাগধুনিয়া পালপাড় গ্রামের মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার (১১), কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার সমসপুর ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কাচেরকোল ইউপির নুরুজ্জামানের ছেলে শিশু আরমান (৭ মাস), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রহমান (৬), রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে সাবিত হাসান (৮) ও রাজবাড়ী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড ভবানীপুর লালমিয়া সড়ক এলাকার ইসমাইল হোসেন খানের ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫)। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান বলেন, দৌলতদিয়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ রাতেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুজনের মরদেহ পরিবারের সদস্যরা এলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩নং পন্টুন থেকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।

Admin মার্চ ২৬, ২০২৬ 0

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী এনসিপি নেতা আহমদ শফী

যানজট নিরসনে ধাপে ধাপে ছুটি হবে পোশাক কারখানা

ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারকে দেওয়া হবে ক্ষতিপূরণ

তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যা: ২২ আসামিকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা মামলায় ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। এদের মধ্যে ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।  আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। আসামিরা হলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া, ওই হলের আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, ভূগোল বিভাগের আল হোসাইন সাজ্জাদ, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ এবং আশরাফ আলী মুন্সী। এদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম জামিনে আছে।  জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে রয়েছে। অপর ২২ আসামি পলাতক রয়েছে। ২০২৪ সালের গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান। অভিযোগপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলার তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে নারাজি দাখিল করা হয়। গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর নতুন করে আরো সাত জনসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার সময় একজন যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তাকে আটক করে প্রথমে ফজলুল হক মুসলিম হলের মূল ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে যান। মোবাইল চুরির অভিযোগ করে তারা ওই যুবককে এলোপাতাড়ি চর-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারেন।

Admin মার্চ ১০, ২০২৬ 0

সিলেটে তেল না পেয়ে পাম্পকর্মীকে ছুরিকাঘাত

মিরপুরে বহুতল বাণিজ্যিক ভবনে আগুন

বাঁশ বাগানে পানির ট্যাংকিতে ১০ হাজার লিটার ডিজেল

0 Comments